টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও ডাকাতির মূলহোতা রাজা মিয়ার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বাদল কুমার চন্দ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন আসামিকে আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহমেদ আসামি রাজার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেছিলেন, মধুপুরে বাসে ডাকাতি ও দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। রাতে নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদের গ্রেফতারেরও চেষ্টা অব্যাহত আছে।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দিনগত রাতে কুষ্টিয়া থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার পথে এ ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কোচটিতে যাত্রীবেশে উঠে প্রথমে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয় ডাকাতদলের সদস্যরা। পরে যাত্রীদের হাত-পা-চোখ বেঁধে মারধর ও সম্পদ লুটপাট চালায়। এসময় বাসে থাকা এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও এরপর রুট পাল্টে রাত সাড়ে ৩টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুপুরের রক্তিপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় রাস্তার পাশের বালির ঢিবিতে পরিবহনটি উল্টে দিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ওই সদস্যরা টানা তিন ঘণ্টা যাত্রীদের ওপর এমন ভয়াবহ অত্যাচার চালায় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে বুধবার সকালে মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটিতে থাকা কুষ্টিয়ার এক যাত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
আরিফ উর রহমান টগর/এমআরআর/জেআইএম