উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বিরামপুর উপজেলা। ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন শস্য আবাদেও পিছিয়ে নেই এ এলাকার কৃষকরা। কচুরমুখিরমুখি চাষে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন তারা। তবে প্রতিবারই স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এখানকার কচুরমুখিরমুখি রপ্তানি হলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। বৃষ্টির অভাবে ফলন কম হয়েছে। ফলে মলিন মুখেই মুখি তুলছেন কৃষকরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ১৪০ হেক্টর জমিতে কচুরমুখি আবাদ হয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৮৫০ জন কৃষক কচুরমুখি চাষ করেছেন। উপজেলার মুকুন্দপুর, কেশবপুর, ফকিরপাড়া, হরেকৃষ্টপুর, ভবানিপুর, মাহমুদপুর, প্রস্তমপুর, সারাঙ্গপুর, চকবসন্তপুর, মির্জাপুর ও হাবিবপুর গ্রামের মাঠে সবচেয়ে বেশি কচুরমুখির চাষ হয়েছে।
মুকুন্দপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বারী বলেন, ‘এ বছর ৫০ শতক জমিতে কচুরমুখি চাষ করেছি। তাতে কচুরমুখি চাষ হয়েছে ৯০ মণ। অনাবৃষ্টির কারণে এবার ফলন কম হয়েছে।’ জানতে চাইলে ভবানিপুর গ্রামের কচুরমুখি চাষি আহসান কামাল বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কচুরমুখি চাষ করছি। প্রতিবারের ন্যায় এবারো দেড় বিঘা জমিতে কচুরমুখি আবাদ করেছি। এতে ২০০ মণ কচুরমুখি আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘা কচুরমুখিতে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এক মণ কচুরমুখির দাম বাজারে ১ হাজার থেকে ১১০০ টাকা। কচুরমুখি বিক্রয় করে খরচ বাদে কিছু টাকা লাভ হয়েছে।’
সখিনা বেগম নামের এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘জমি থেকে কচুরমুখিরমুখি সংগ্রহের পর মাটি পরিষ্কার করে বিক্রয়ের উপযোগী করি। এতে প্রতি মণ কচুরমুখিতে আমরা ১০০ টাকা পাই। এ দিয়েই আমাদের সংসার চলে। তবে জমিতে ফলন কম হয়েছে। তাই গতবারের মতো এবার তেমন কাজের চাপ নেই।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘উপজেলার বেশ কয়েটি মাঠে কচুরমুখি চাষ হয়। এ এলাকায় বেলে-দো-আঁশ মাটির মিশ্রণ রয়েছে। এসব জমি কচুরমুখি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার কচুরমুখি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এবার কিছুটা ফলন কম হয়েছে।
মো. মাহাবুর রহমান/এসজে/এএসএম