দেশজুড়ে

কক্সবাজারে হোটেল ম্যানেজারের রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

কক্সবাজারের কলাতলীতে ‘সি কক্স’ আবাসিক হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার খালেদ আশরাফ বাপ্পীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (৬ আগস্ট) দিনগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। বাপ্পী কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএম খালীর নয়াপাড়া বাংলাবাজার কাজীর রোড এলাকার বাসিন্দা। তিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই হোটেলে তিনি পার্ট টাইম চাকরি করতেন।

সি কক্স হোটেলের রিজার্ভেশন অফিসার অর্ণব বলেন, হোটেল থেকে কিছু দূরে পাহাড়ের সঙ্গে লাগোয়া হোটেলের স্টাফদের কোয়ার্টার রয়েছে। ওখানে স্টাফরা রাত যাপন করেন। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হোটেলের ডিউটি শেষ করে বাপ্পী স্টাফ কোয়ার্টারে চলে যান। রাত ১টার দিকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থা তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষে একসঙ্গে চারজন থাকলেও ওই সময় কেউ ছিল না। এছাড়া কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ করা ছিল।

বাপ্পীর মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘অনেকেই আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সে আত্মহত্যা করার মতো কোনো ছেলে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে মুফিজ নামের সাতকানিয়ার এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় ছিল। পরিচয় সূত্রে যৌথ ব্যবসা করার লক্ষ্যে আমার ছেলে ধারদেনা ও ব্যাংকের ঋণ নিয়ে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুফিজের কথা মতো তার হাতে তুলে দেয়। কিন্তু মুফিজ করোনা ও দোকান ভেঙে ফেলার অজুহাতে বাপ্পীকে টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা শুরু করে। অথচ এদিকে ধার ও ঋণের সুদ কেবল বাড়ছিল। এসব নিয়ে মুফিজের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। তাই আমার ধারণা, ঠান্ডা মাথায় কেউ বাপ্পীকে হত্যা করেছে।’

বাপ্পীর ছোট ভাই রিহাদ বলেন, ‘শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এলাকার চাচা সম্পর্কীয় নুরুল আজিমের ফোনে একটি কল আসে। ফোন করে জানানো হয়, বাপ্পী মারা গেছে আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন। তখন চাচা নুরুল আজিম আমাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে জানতে পারি বাপ্পীকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

ছোট ভাই রিহাতেরও দাবি, ‘ভাইয়ের ব্যবসায়িক পার্টনার মুফিজ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মরদেহটি হাসপাতালে ছিল। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জানতে পারি হোটেল সি কক্সের স্টাফ কক্ষে বাপ্পীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রুম তল্লাশি করে আলামত হিসেবে ফাঁসের একটি গামছা ও মোবাইল জব্দ করি। গলায় ফাঁসের দাগ আছে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস জাগো নিউজকে বলেন, মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে জানতে পেরেছি। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এরপরও সঙ্গে থাকা সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমএস