চলছে শরৎ কাল। মন-প্রাণ খুলে ডানা মেলছে সাদা বক আর পানকৌড়ি। সবুজ পাতার ওপর পাখা গুটিয়ে বসে আছে সাদা-কালো নানা রকম বাহারি পাখি। দূর থেকে দেখে মনে হবে যেন সাদা ফুল ফুটেছে। প্রায় প্রতিটি গাছেই রয়েছে এমন পাখির ঝাঁক। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি দেখে মনে হয় যেন এক পাখিরাজ্য।
প্রকৃতি ও পাখিদের এমন চোখ ধাধানো দৃশ্য ও পাখিদের অবিরাম কিচিরমিচির শব্দ কানে আসবে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৫নং ভাবকী ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামের চেয়ারম্যানবাড়িতে। পাখিপ্রেমী মহুরম ছফি উদ্দিন মন্ডল ও হযরত আলী এবং ভাবকী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহুরম নজরুল হক শাহ্ বহু যুগ ধরে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সারা বছর পাখিদের আসা-যাওয়া এই চেয়ারম্যানবাড়িতে। কোনো উৎপাত নেই, কেউ বিরক্ত করে না। তাই দূরদেশ থেকে আসে পরিযায়ী পাখিও।
সারাদেশে যখন পাখি শিকারের মহোৎসব চলে, তখন চেয়ারম্যানবাড়ির চিত্রটা ঠিক তার উল্টো। তাই নিরাপদ আশ্রয়ে জানুয়ারি থেকে প্রতিনিয়ত ছুটে আসে হাজার হাজার পাখি। ছয় মাস থেকে যায় এই নিরাপদ আশ্রয়ে। দীর্ঘ যুগ ধরেই এখনো অসংখ্য গাছ ও বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নেয় পরিযায়ী ও দেশি পাখি। পাখির কলকাকলিতে মুখর চেয়ারম্যানেরবাড়ির এলাকা।
চেয়ারম্যানবাড়ির চারপাশে প্রায় ৫৫ বিঘা জমির উপর সবুজ ছায়া ঘেরা হাজারো গাছ ও বাঁশঝাড় দীর্ঘ যুগ ধরে পাখিরা অভয়ারণ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। প্রতি বছর শীতকাল জুড়ে পরিযায়ী পাখির দল ঝাঁক বেঁধে হাজির হতে থাকে এই চেয়ারম্যান বাড়ির গাছ ও বাঁশঝাড়ে। অসংখ্য গাছে রঙ-বেরঙের শত শত বক, পানিকৌড়িসহ অন্যান্য পাখির ছুটাছুটি মন কেড়ে নেবে যে কারো। পাখিদের কিচিরমিচির ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেবে ইট পাথরের জীবনের কথা।
প্রতি বছরের মতো এবারো এখানে সকাল বিকেল হাজার হাজার পাখির দেখা মিলছে। এসব পাখি আশপাশের বিল ও ক্ষেতবাড়ি থেকে খাবার সংগ্রহ শেষে আশ্রয় নেয় চেয়ারম্যানবাড়ির গাছ ও বাঁশঝাড়গুলোতে। পাখিপ্রেমী জিকরুল হক শাহ্ বলেন, আমার বাপ-দাদার আমল থেকে দীর্ঘ যুগ ধরে আমাদের এ বাড়িটি চারপাশ ঘিরে পাথিদের অভয়ারণ্য। প্রতি বছরই পরিযায়ী পাখিতে মুখরিত থাকে বাড়ির চারপাশ। এখানে দিনে রাতে সব সময়ই পাখিরা অবস্থান করে। প্রতি বছর শীতকালে পাখিদের বিচরণ দেখা গেলেও এবার বসন্তের শুরুতে পাখিদের বিচরণ অনেক বেশি ছিলো এবং এখনও অসংখ্য পাখি আছে। পাখির এই অভায়ারণ্য দেখতে ছুটে আসে পাখিপ্রেমীরা।
খানসামা উপজেলা পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম সুজাউদ্দিন শাহ্ লুহিন বলেন, প্রতি বছর জানুয়ারির শেষে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমণ ঘটে এবং জুলাইয়ের শেষের দিকে চলে যায়। তবে এবার এখনও অসংখ্য পাখি আছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের বাড়ির চারপাশে নিজস্ব গাছ ও বাঁশঝাড়ে পাখিদের অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হয়েছে। এই এলাকায় ভুলেও কেউ পাখি শিকারের কথা চিন্তা করে না। কিন্তু বিল বা জমিতে যখন পাখিরা খাবার আহরণে যায়, তখন কিছু মানুষ পাখি শিকার করে। এটা বন্ধ করা গেলে পাখিদের আগমণ আরো বাড়বে।
এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশির উল আলম মুঠোফোনে জানান, আসলে এটাতো মেসেজ দেওয়ার বিষয়। এই বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি। আমি বিষয়টি নিজে তদারকি করে দেখবো।
এমদাদুল হক মিলন/এফএ/জিকেএস