দেশজুড়ে

গাজীপুরে বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের মামলা

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোসাব্বির হোসেন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন।

মামলায় অনুষ্ঠানে বেলুন সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এরা হলেন মো. বাবুল, মনিক ও কিবরিয়া। এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, মামলাটির তদন্ত কাজ চলছে। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশ লাইনস মাঠে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান ও নাগরিক সম্মেলনে আবু হেনা রনিসহ পাঁচজন দগ্ধ হন। দগ্ধ অন্যরা হলেন মোশাররফ হোসেন, জিল্লুর রহমান, ইমরান হোসেন ও রুবেল হোসেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান শুরুর আগে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিদের উদ্বোধনী মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রধান অতিথির হাতে বেশ কিছু বেলুন দেওয়া হয় উড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বারবার চেষ্টা করলেও বেলুনগুলো উড়ছিল না। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য সে বেলুন মঞ্চের পেছনে নিয়ে যান। শুধু পায়রা উড়িয়ে স্বরাষ্ট্রামন্ত্রীসহ অন্য অতিথিরা অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে চলে যান।

অতিথিরা মূল মঞ্চে চলে যাওয়ার কিছু সময় পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য বেলুন বিক্রেতাকে বকাঝকা করেন। এতে বেলুন বিক্রেতা নিজেই বেলুনে আগুন লাগিয়ে ওড়ানোর চেষ্টার করেন। এসময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাশে বসে থাকা কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ পাঁচজন দগ্ধ হন।

এদিকে ওই ঘটনা তদন্তে জিএমপির ডিসি (অপরাধ-উত্তর) আবু তোরাব মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

কমিটিতে জিএমপির এডিসি (উত্তর) রেজনোয়ান আহমেদ, এসি (প্রসিকিউশন) ফাহিম আশজাদ ও মেট্রো সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে।

বিস্ফোরণে দগ্ধ কৌতুক শিল্পী আবু হেনা রনি ও পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমানের শারীরিক অবস্থা আগের চাইতে ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা

আমিনুল ইসলাম/এসআর/এএসএম