জুন মাসের ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জন্ম নেওয়া শিশু প্লাবন পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। দ্রুত তাকে ঘর দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্লাবনের মা-বাবার কাছে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সময় জেলা প্রশাসক এ আশ্বাস দেন।
চলতি বছরের ১৬ জুন থেকে সুনামগঞ্জে শুরু হয় ইতিহাসের ভয়াবহ বন্যা। ১২২ বছরের রেকর্ড ভাঙা বন্যায় জেলাজুড়ে কোথাও দাঁড়ানোর মতো শুকনো জায়গা ছিল না। এ অবস্থায় পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রীর জমিলা খাতুনের প্রসব বেদনা ওঠে। সুমন তাকে নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রওনা হন। কিন্তু রাস্তা ডুবে যাওয়ায় তারা আটকা পড়েন।
তাদের জেলা প্রশাসনের সহায়তায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮ জুন সকাল ১০টায় জমিলা বেগমের কোল আলো করে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান। সঙ্গে সঙ্গেই জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুটির নাম রাখেন প্লাবন। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিশুটির জন্য উপহার সামগ্রী পাঠান।
প্লাবনের মা জমিলা খাতুন বলেন, ‘আজকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। তিনি আমাদের নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। যেকোনো প্রয়োজনে আসতে বলেছেন। আমরা অনেক আনন্দিত।’
প্লাবনের বাবা সুমন মিয়া বলেন, ‘বন্যার সময় সুনামগঞ্জের সব মানুষের কষ্ট হয়েছে। আমারও খুব কষ্টে ছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসকের সহায়তায় আমরা ভালো ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আমার ছেলের নাম নিজে রেখে দিলেন এবং উপহার সামগ্রী পাঠালেন আমি নিজেকে ধন্য মনে করেছি। ডিসি বলেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার দেবেন। ঘর পেলে আমাদের মাথা গোজার ঠাঁই মিলবে।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মল্লিকপুর এলাকার ওই দম্পতির বাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে গিয়েছিল। তার মধ্যে জমিলা খাতুনের প্রসব যন্ত্রণা উঠলে তারা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হয়। কিন্তু রাস্তা ডুবে যাওয়ায় সেখানে যেতে পারেনি। পরে আমি তাদের আমার কার্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে এলে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জানাই। পরে প্রধানমন্ত্রী শিশুটির নাম প্লাবন রাখেন এবং তার জন্য উপহার সামগ্রী পাঠান। প্লাবনের সব সময় খোঁজ রাখার জন্যও আমাদের বলেছেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যেহেতু প্লাবনের বাবার নিজের জমি-ঘর নেই তাই তাকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি ঘর উপহার দেওয়া হবে। আগামী একমাসের মধ্যে সদর উপজেলার লালপুরে একশটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সেখানেই প্লাবনের নিজের নতুন ঠিকানা হবে।
লিপসন আহমেদ/এসজে/জিকেএস