দেশজুড়ে

রাতে মদ-জুয়ার আসর বসে দুর্গাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে

বেহাল দশা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের। এক সময় এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন অনেকে স্বাস্থ্যসেবা নিলেও এখন সারাদিনে ১০-১৫ জন রোগীও দেখা যায় না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরের অবস্থার সঙ্গে ভেতরের অবস্থার কোনো মিল নেই। স্টাফ কোয়াটারে রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা লোকজন নিজেদের খেয়াল খুশিমতো অফিসে আসেন ও চলে যান। বিভিন্ন কারণে অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়েছে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। যারা আছেন তারাও সময়মতো অফিসে আসেন না। কেন্দ্রের ভেতরের অবস্থা খুবই নাজুক। ছয়টি কক্ষের মধ্যে দুটি কক্ষ ব্যবহার করা যাচ্ছে। বাকি চারটি কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী। রোগীদের বসার ভালো ব্যবস্থা নেই। কক্ষগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সবগুলো কক্ষের তালাবন্ধ। স্টাফ কোয়াটারের অবস্থা আরও করুণ। সেখানে ছয়টি কক্ষের মধ্যে রাতে মদ-জুয়ার আসর বসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পদসংখ্যা পাঁচটি। সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো), পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি), ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়ক ও আয়া। এর মধ্যে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, অফিস সহায়ক ও আয়া কর্মরত রয়েছেন। অন্য দুটি পদ বছরের পর বছর খালি। এক সময় প্রতিদিন শতাধিক মানুষ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা নিয়ে থাকলেও এখন ১০-১২ জন রোগী আসেন। কোনো কোনো দিন রোগী একজনও আসে না।

সারেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির ভবনে আগাছায় পরিপূর্ণ। জানালার গ্লাস ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ, দেওয়ালে পলেস্তরা খসে পড়েছে। রোগী বসার কোনো স্থান নেই। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও রাখার জায়গায় না থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের থাকার কোয়ার্টারে ২ ইউনিটের ছয় কক্ষের ভবনের ভয়ংকর অবস্থা। দরজা-জানালা ভাঙা। রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডা বসে এখানে।

সেবা নিতে আসা সোনিয়া আক্তার নামের এক রোগী বলেন, ৬-৫ বছর আগেও এ স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রের মান ভালো ছিল। দৈনিক শত শত মানুষ সেবা নিতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে সেবা বা ভবনের পরিবেশ ভালো না থাকায় মানুষের আগ্রহ কমছে।

উত্তর দুর্গাপুর থেকে আসা বৃদ্ধ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার কোমরে ব্যথা। এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। গরিব মানুষ বাইরে গিয়ে বড় ডাক্তার দেখানোর টাকা নেই। এরা কয়েকটা ওষুধ দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিই এখন রোগী হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা ঠিকমতো অফিসে আসেন না। তারা মর্জিমতো আসা-যাওয়া করেন। স্টাফ কোয়াটারের সব দরজা-জানালা ভাঙা। সেখানে রাতে মদ-জুয়ার আসর বসে।

কেন্দ্রের পরিদর্শিকা লায়লা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, আমি দীর্ঘ ২০ বছর এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে আসছি। শারীরিকভাবে অসুস্থ আমি। পাঁচজনের কাজ আমাদের দুজনকে করতে হয়। আয়া মাঠে কাজ করেন। মাঝে মধ্যে অফিসে আসেন। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থা খুবই করুন। স্টোর রুম, ওটি রুম সব নষ্ট। কোয়াটারে আমি কয়েক বছর ছিলাম। একদিন বাইরে দিয়ে কে বা কারা দরজার শিকল আটকে ভয় দেখায়। এরপর থেকে আর থাকি না।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়া বিপ্লব বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। এলাকার মানুষের সুবিধার্থে আমি একটি রাস্তা করে দিয়েছি। একসময় এখানে গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারি হতো। এখন আর হয় না।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ নূর বলেন, ভবনগুলো আশি-নব্বই দশকে নির্মাণ করা। ভবনগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আশা করছি ভবনগুলো অল্প সময়ে পুনর্নির্মাণ হবে।

এম মাঈন উদ্দিন/আরএইচ/এএসএম