স্বাস্থ্য

শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য খাতে আলাদা মনোযোগ দরকার: দ্বীন মোহাম্মদ

বর্তমান সময়ে রোগীদের মধ্যে ৪০ থেকে ৪২ ভাগই শিশু উল্লেখ করে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইয়েন্সেস ও হাসপাতালের (নিনস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, এ শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আলাদা মনোযোগ দেওয়া দরকার। এজন্য তিনি স্বাস্থ্য সচিবেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় অসংখ্য রোগীকেই বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসার দ্বারস্থ হতে হয়।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নিউরোসাইয়েন্সেস হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা অধিকাংশ রোগীকেই ভালো করতে পারি না। শতকরা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ রোগী ভালো হয়। এ ক্ষেত্রে কিছু বিরল রোগ আছে, যেগুলোর মৃত্যু অবধারিত। সেগুলো নিয়ে আমাদের কিছুই করার থাকে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আমাদের হাসপাতালে আইসিইউ সেবা সম্পূর্ণ ফ্রি। কিন্তু একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বেডে রাত পার হলেই ৫০ হাজার টাকা। এর বাইরে তো বিভিন্ন পরীক্ষা-ফি তো আছেই। কয়টা পরিবারের এত খরচ বহনের সুযোগ আছে? এক্ষেত্রে সরকারি সেক্টর আরও উন্নত করতে হবে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সুন্দরভাবে সাজান, যেকোন পরামর্শ, সহযোগিতা আমরা করবো।

ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, নিউরোসাইয়েন্সেস হাসপাতালের ১০ বছরের ইতিহাসে একটা ঐতিহাসিক দ্বার উন্মোচন হয়েছে। একটা শিশুকে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে আমরা বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছি। সে এখন নিশ্চিতভাবে আকাশ দেখতে পারবে, নিশ্বাস নিতে পারবে। অধ্যাপক ডা. নারায়ণ তার টিম নিয়ে সেটি করেছেন। এজন্য আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। এসময় তিনি বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো জিন থেরাপি চিকিৎসা হয়েছে, এটি আমাদের জন্য বড় একটি আশার দিক। কিন্তু এর যে ব্যয়, সেটি আসলে রোগীদের জন্য বহন করা খুবই কঠিন। আমরা চাইলেও এ নিয়ে কিছু করতে পারছি না।

সচিব বলেন, আমরা আশা করছি একটা পর্যায়ে ওষুধটির দাম কমে যাবে। আমাদের হাতের নাগালে নেমে আসবে। তখন এ চিকিৎসা আমাদের দেশে নিয়মিত করতে পারবো।

আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে রোগটির চিকিৎসা না থাকার কারণে প্রতি বছর বিশ্বে অসংখ্য শিশু মারা যেত। এ রোগে সাধারণত শিশুদের স্পাইনাল কর্ডের স্নায়ুকোষ নষ্ট হয়ে যায়। যেসব স্নায়ুকোষ মাংসপেশী নিয়ন্ত্রণ করে সেই স্নায়ুকোষগুলো নষ্ট হওয়ার কারণে মাংসপেশী দুর্বল হতে থাকে। বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ এ রোগ সম্পর্কে অবগত নয়। এ রোগে নবজাতকরা প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্রমান্বয়ে তারা কনজেনিটাল হার্ট ডিজিসে ভোগে।

হাসপাতালের পরিবেশ সম্পর্কে সচিব আরও বলেন, নিউরোসাইয়েন্সেস হাসপাতালে প্রচুর সংখ্যক রোগী থাকে, ভিতরেই প্রবেশ করতে কষ্ট হয়ে যায়। এরপরও এখানকার প্রশাসন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন। এ ক্ষেত্রে আমি বলি যে লিডারশিপ দক্ষতা খুবই বড় গুণ।

এএএম/এমআইএইচএস/জিকেএস