দুদকের করা মামলায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বুধবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ওই চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। জামিন শুনানি শেষে বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মনোয়ার হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপি প্রকল্পের ৩০ লাখ ১৫ হাজার ৮৪৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্র জানায়, এলজিএসপি-৩ আওতায় দুই অর্থ বছরে ৩০ লাখ ১৫ হাজার ৮৪৪ টাকা থোক বরাদ্দ পায়। কিন্তু ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের ডিএফ মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান পরিদর্শনের সময় ক্যাশবই যাচাই করে হিসেবে অসঙ্গতি দেখতে পেয়ে সোনালী ব্যাংক শাহজাদপুর শাখায় খোঁজ নেন। পরে ব্যাংক হিসেবে মাত্র ৮ টাকা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানান। ঘটনা তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।
এদিকে সরকারি বরাদ্দের এলজিএসপি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের (৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড) সদস্য সালেহা বেগমকে এ বছরের ১৭ জানুয়ারি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকারের পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
আদালত সূত্র জানায়, এলজিএসপির ৩০ লাখ ১৫ হাজার ৮৪৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ, সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাহেলা বেগম ও তৎকালীন ইউপি সচিব জিয়াউর করিমের বিরুদ্ধে গত ৫ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এ মামলায় বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ। জামিন শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ মামলায় তৎকালীন ইউপি সচিব জিয়াউর করিম পলাতক থাকলেও অপর আসামি সংরক্ষিত নারী সদস্য সাহেলা বেগম কারাগারে রয়েছেন। সুলতান মাহমুদ এর আগেও জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতিও ছিলেন তিনি।
আরএইচ/এমএস