দেশজুড়ে

চেয়ারম্যান সভাপতি হওয়ায় দুই সদস্যের পদত্যাগ

সিরাজগঞ্জে একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির (এডহক) সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় অনাস্থা প্রস্তাব দিয়ে পদত্যাগ করেছেন কমিটির দুই সদস্য।

সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মাথায় মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) তারা দুজন পৃথকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা হেম্মাদিয়া বহুমুখী দাখিল মাদরাসায়। পদত্যাগ করা সদস্যদের দাবি, সভাপতি ঘোষণা করা নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অযোগ্য এবং বিতর্কিত লোক। অভিভাবকদের মতের বাইরে গিয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাকে সভাপতি মনোনীত করেছে। এ কারণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এখান থেকে নিয়ে যেতে টিসি চাচ্ছেন। তাই বোর্ড চেয়ারম্যানের পরামর্শে শিক্ষার পরিবেশ এবং বিদ্যালয়ের স্বার্থে তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ওই দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগামী ছয় মাসের জন্য এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনের লক্ষে মাদরাসা থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সুপারিশ পাঠানো হয় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে। সেখানে আবু বক্কার সিদ্দিক নামে কোনো সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রস্তাবিত তালিকার বাইরে কমিটি দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

এমনকি যাকে সভাপতি করা হয়েছে তিনি মাদরাসার অভিভাবক বা কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নন। তাই এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রকাশ পেলে অভিভাবক ও স্থানীয়রা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে গণ সই করেন।

অভিভাবকদের বাধার পরেও এডহক কমিটি থেকে পদত্যাগ না করায় চেয়ারম্যান আবু বক্কার সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) কমিটির অভিভাবক সদস্য সুলতান মাহমুদ এবং শিক্ষক প্রতিনিধি আছিয়া খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

অভিভাবক সদস্য সুলতান মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, চেয়ারম্যানের কোনো সন্তান লেখাপড়া করে না। তিনি মাদরাসার দাতাও নন। তাছাড়া আমরা শুনেছি তিনি বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এমন একজন লোককে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করায় আমরা ক্ষুব্ধ। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ এবং বিদ্যালয়ের স্বার্থে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।

শিক্ষক প্রতিনিধি আছিয়া খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, আমি শিক্ষকদের প্রতিনিধি। তাই শিক্ষকদের সিদ্ধান্তে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাদরাসার স্বার্থে আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

নলকা হেম্মাদিয়া বহুমুখী দাখিল মাদরাসা সুপার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সচিব খাইরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পদত্যাগপত্রের অনুলিপি পেয়েছি।

এ বিষয়ে নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাগো নিউজকে বলেন, আমি বোর্ডের নিয়ম মেনেই সভাপতি হয়েছি। সদস্যরা পদত্যাগ করলে সে বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৃপ্তি কণা মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, পদত্যাগপত্র পেয়েছি। আমি তাদের পদত্যাগপত্র বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে।

জেএস/জিকেএস