দেশজুড়ে

নাশকতা মামলার আসামি হলেন জাপানে থাকা ছাত্রদল নেতা

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতা মামলায় ইসহাক ইসলাম নামের এক জাপান প্রবাসী ছাত্রদল নেতাকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করলেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লিংক রোডে ঘটে যাওয়া নাশকতার মামলায় ৩৩ নম্বর আসামি হিসেবে তার নাম রয়েছে।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) পরিবারের লোকজন এ তথ্য জানানোর পর জাপান থেকে ইসহাক ইসলাম নিজেও তার অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। বিএনপি নেতাদের দাবি মামলাটি যে গায়েবি সেটা আবারও প্রমাণিত হল। তবে পুলিশ বলছে, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

এর আগে গত ২০ নভেম্বর ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম হত্যা মামলায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির খানকে হাজিরার জন্য আনা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে। এসময়ে বিএনপি নেতারা সড়ক অবরোধ করে জনস্বার্থ বিঘ্নিত, ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার জন্য সশস্ত্র জমায়েত হয়েছিল। এ ঘটনায় মডেল থানার এস আই শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে ২১ নভেম্বর সোমবার রাতে মামলা করেন। ৩৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও ২৫০ জনকে অজ্ঞাতজনকে আসামি করা হয়। এ মামলার ৩৩ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ফতুল্লা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইসহাক ইসলামের নাম।

এ বিষয়ে ইসহাকের মামা জুয়েল আরমান বলেন, আমার ভাগনে ইসহাক চলতি বছরের মার্চে পড়াশোনার জন্য জাপানে চলে গেছে। সেখানে থেকে কীভাবে সড়ক অবরোধ করতে নারায়ণগঞ্জে আসল তা আমাদের বুঝে আসে না। আমার ভাগনেকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামি ইসহাকের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমি বিগত ৬ মাস ধরেই জাপানে অবস্থান করছি। এখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি। আজ শুনলাম আমাকে নাকি নাশকতা মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল জাগো নিউজকে বলেন, যে ঘটনা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে সেদিন এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আর পুলিশ যে গায়েবি মামলা দিয়েছে সেটা প্রমাণ হলো জাপানে থাকা ব্যক্তিকে আসামি করে।

এ বিষয়ে মামলা বাদী ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শাহাদাত বলেন, আমি বিষয়টি জেনে জানাতে পারবো।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রেজাউল হক দিপু বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্তের সময় দেখা যাবে। একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারে। এ সুযোগ অনেকে নিয়ে থাকেন। যদি তিনি জাপানে থাকেন এটা তদন্তের বিষয়। তদন্ত না করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/আরএইচ/জেআইএম