রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ওয়ারি ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় র্যাবের পৃথক অভিযানে গাঁজা বিক্রেতা চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি গাঁজা ও বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ। গ্রেফতাররা হলেন, মো. সুরুজ (২০), শিমুল (২৪), মো. শাহিন (২৪), মো. মিলন (২৮), মো. রয়েল (২৭), মো. আশরাফুল ইসলাম (২৮)।
তিনি বলেন, মোমবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জসহ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ওয়ারি এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে একাধিক ব্যাগভর্তি ১৫০ কেজি গাঁজা ও ১টি ট্রাকসহ কারবারি চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গাঁজা বিক্রেতা চক্রের মূলহোতা হলো সুরুজ এবং তার প্রধান সহযোগী ট্রাক চালক রয়েল। দুজনের পরিকল্পনা মোতাবেক তাদের আরও ৪ জন সহযোগী বিভিন্ন সময় গাঁজার চালান আনা-নেয়া ও বহনের কাজে সহায়তা করে থাকে।
অল্প পরিশ্রমে বেশি টাকা উপার্জনের আশায় তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক একটি কারবারি চক্র গড়ে তোলেন। চক্রটি বিভিন্ন সময় অভিনব কায়দায় কুমিল্লাসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ও যাত্রীবাহী গাড়ীযোগে গাঁজার চালান বহন করে নিয়ে এসে নিজ হেফাজতে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্রয়-বিক্রয় করতেন।
তিনি জানান, চক্রের মূলহোতা সুরুজ পেশায় মূলত পিকআপ গাড়ির চালক। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় পিকআপ চালাতেন। পরে ২০২০ সাল থেকে ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কে ট্রাকের হেলপারি শুরু করে এবং পেশার আড়ালে গাঁজা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
চক্রের সহযোগী আশরাফুল মূলত সিএনজি চালক। তিনি সিএনজি চালানোর আড়ালে আগে থেকেই গাঁজার চালান বহন করতেন। একপর্যায়ে চক্রের মূলহোতা সুরুজের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তাদের অপরাধ কার্যক্রম ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। অপর দুই সহযোগী শিমুলের পেশা ভাঙ্গারি ব্যবসা এবং শাহিন ভ্যান চালকের পাশাপাশি গাঁজা বহন করতেন।
আরএসএম/এমআরএম/জেআইএম