খেলাধুলা

পেলের সঙ্গে যে স্মৃতি কাজী সালাউদ্দিনের

পেলের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন ফুটবল বিশ্ব। শোকের ছায়া পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের কিংবদন্তী ফুটবলার ও বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন পেলের মৃত্যুতে শোকাহত। পেলের মৃত্যুতে কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘গভীর রাতে যখন পেলের মৃত্যুর খবরটি জানলাম তখন অত্যন্ত দুঃখ পেলাম। ভাবলাম একজন একজন করে লিজেন্ডরা চলে যাচ্ছেন। ম্যারাডোনার পর পেলেও চলে গেলেন। বারবার পেলের মুখটা ভেসে উঠছিল আমার স্মৃতিতে। সকালে উঠেও বারবার পেলের কথা ভাবছিলাম এবং তাকে নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন খবর দেখছিলাম। এক সময় ভাবলাম‌- এটাইতো পৃথিবীর নিয়ম। এভাবেই তো সবাই চলে যাবেন।'

ফুটবল সম্রাট পেলের সঙ্গে দুইবার দেখা হয়েছিল কাজী মো. সালাউদ্দিনের। প্রথমবার ১৯৭৭ সালে ভারতের কলকাতায় এবং দ্বিতীয়বার ২০০৬ সালে জার্মানির ফ্র্যাংকফুটে বিশ্বকাপ ফুটবলের ড্র অনুষ্ঠানে। পেলে ১৯৭৭ সালে কলকাতায় এসেছিলেন কসমস (নিউ ইয়র্ক কসমস) ক্লাবের হয়ে মোহনবাগানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে।

পেলের সঙ্গে দেখা হওয়ার স্মৃতি হাতড়ে কাজী মো. সালাউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘১৯৭৭ সালে কসমস ক্লাবের হয়ে মোহনবাগানের বিপক্ষে তিনি যখন খেলতে কলকাতা এসেছিলেন তখন আমার সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল। কথা হয়েছিল খুব অল্প। কেমন আছেন? আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি- এমন। এরই মধ্যে তাকে বলেছিলাম, বাংলাদেশে আসতে চান কিনা। পেলে বলেছিলেন, আমাকে ইনভাইট করো, আসবো।'

কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘এরপর তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ড্র অনুষ্ঠানে। ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশে আসার আগ্রহ দেখালেও তাকে আনার কোন উদ্যোগ নিতে পারিনি। কারণ, আমি তখন তো ফেডারেশনের সভাপতি ছিলাম না। বাফুফে সভাপতি হওয়ার পর চেষ্টা করেছিলাম; কিন্তু তখন তার শারীরিক অবস্থাটা ভালো ছিল না। যে কারণে, চেষ্টাটা সেভাবে এগিয়ে নিতে পারিনি।'

দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর বৃহস্পতিবার রাত ১ টায় ৮২ বছর বয়সে ব্রাজিলের সাওপাওলোর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন পেলে। বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জয় করেন পেলে। ১৯৫৮ সালে যখন ব্রাজিল বিশ্বকাপ জয় করে, তখন পেলের বয়স ছিল কেবল ১৭ বছর। এরপর ১৯৬২ এবং ১৯৭০ সালেও বিশ্বকাপ জয় করেন তিনি। তিনি ২০০০ সালে ফিফার শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

আরআই/আইএইচএস/