একদিনের ব্যবধানে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় ১১ বছরের শিশু মিষ্টি (ছদ্মনাম) বৃহস্পতিবার সকালে আত্মহত্যা করার জন্য ঘরের দরজা আটকে বসে ছিল। পরে অভিভাবকদের পীড়াপীড়ি, অনুরোধ ও আশ্বাসে সে বিকেল ৩টার দিকে ঘরের দরজা খোলে। এবার পাবনার কাশীনাথপুর স্কাইলার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে।
স্কুলের শিক্ষক মনিরা খাতুন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে মঙ্গলবারের ফলাফলে দেখা যায় ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ গ্রেড মিলিয়ে ১৩ জন বৃত্তি পায়। আর বুধবার রাতে ঘোষিত সংশোধিত ফলাফলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংখ্যা ৩ জন বেড়ে হয়েছে ১৬ জন। তবে আগে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাওয়া দুই শিক্ষার্থীর নাম বাদ পড়েছে। এতে দু’জনই কান্নকাটি শুরু করে। তাদের অভিভাবকরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। অভিভাবকরা দিশেহারা হয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে বলছেন কিছু একটা করতে।
মনিরা খাতুন আরও জানান, তারা অভিভাবকদের বোঝাতেই পারছেন না, এটাতে প্রতিষ্ঠানের কিছুই করার নেই।
এদিকে জেলার অন্যান্য স্কুলেও এমন বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। সাঁথিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগের ফলাফলে ৪টি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ছিল। বুধবার রাতে ঘোষিত সংশোধিত ফলাফলে একজনও বৃত্তির তালিকায় নেই। এতে পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা কান্নাকাটি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, এটা একটা খারাপ দৃষ্টান্ত। কোমলমতি শিশুদের মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়লো। অনেক অভিভাবকও সামাজিকভাবে লজ্জায় পড়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার জানান, পঞ্চম শ্রেণির মোট শিক্ষার্থীর এক পঞ্চমাংশ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে হিসাবে এবার জেলায় মোট বৃত্তি পরীক্ষার্থী ছিল ৯ হাজার ৭৯০ জন। প্রথমবার ঘোষিত ফলাফলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৬৪৩ জন। সংশোধিত ফলাফলেও বৃত্তি পেয়েছে এক হাজার ৬৪৩ জন।
তিনি বলেন, প্রথমবার ঘোষিত ফলাফলে কিছুটা ত্রুটি ছিল। সেটি সংশোধন হয়েছে। তবে বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংখ্যার কোনো হেরফের হয়নি। তবে এ ব্যাপারে তাদের স্থানীয়ভাবে কিছু করার নেই। আমিনুল ইসলাম জুয়েল/এফএ/জিকেএস