দেশজুড়ে

৩৭ বছর পর বন্ধুকে খুঁজে পেলেন প্রবাসী

পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে খোঁজা বন্ধু হারুনুর রশীদের সন্ধান পেয়েছেন প্রবাসী মহিরুদ্দিন। তবে এখনই তাদের সাক্ষাৎ মিলছে না। মহিরুদ্দিন কানাডা থেকে শিগগির দেশে এসে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করবেন।

হারুনুর রশীদ ওরফে হারেজ (৬৫)। তিনি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা কামালদিয়া ইউনিয়নের কামালদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মাজেদ শেখের ছেলে। বর্তমানে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই থাকেন। নিজের ক্ষেত-খামারের সময় দেন।

এর আগে সকালে ‘৩৭ বছর ধরে দেখা নেই, বন্ধুর খোঁজে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন’ শিরোনামে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাধ্যমে তার সন্ধান মেলে।

মো. নাইমুল হাসান নাজমুল নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হারুনুর রশীদ এলাকার সবার কাছে হারেজ নামে পরিচিত। জাগো নিউজে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিস্তারিত জানতে পেরে হারেজ কাকার সঙ্গে কথা বলি। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আমরা চেষ্টা করবো দুই বন্ধুর সঙ্গে মিলনের।

আরও পড়ুন: ৩৭ বছর ধরে দেখা নেই, বন্ধুর খোঁজে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন

হারুনুর রশিদ শেখের ভাতিজা মো. মহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সংবাদটি পড়ে জানতে পারি ওই ব্যক্তি যাকে খুঁজছেন তার বাড়ি মধুখালী। তখন চাচাকে সংবাদটি দেখাই। তিনিই সে হারিয়ে যাওয়া বন্ধু বলে আমাদের জানান। আমরা ওনার পুরনো বন্ধু মহিরুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তবে এ দুই বন্ধুর মিলনের অবদান জাগো নিউজের।

হারুনুর রশিদ শেখ জাগো নিউজকে বলেন, আমি জার্মানির ডর্টমাউন্ড শহরে থাকতাম। আমার পাসপোর্টে নাম ছিল শেখ রশীদ। আমরা ওখানে তিন বন্ধু থাকতাম। আমার পাসপোর্ট জটিলতার কারণে পুলিশি ঝামেলায় পড়ি। জেলও খাটি। দুই বন্ধু আমাকে জেলে দেখতেও আসে। এরপর ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে জার্মানি থেকে দেশে চলে আসি। আমার যতোটুকু মনে পড়ে মহিরুদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামে। আমিও তাকে অনেক খুঁজেছি, চিঠি লিখেছি। কিন্তু দীর্ঘ ৩৭ বছরেও তার খোঁজ পাইনি।

জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর আমার ভাতিজা জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মহিদুল ইসলাম বিষয়টি জানায়। সংবাদটি দেখে পুরনো সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। জাগো নিউজকে ধন্যবাদ। আমি আমার পুরনো বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় কামালদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ওয়ালিদ হাসান মামুন জাগো নিউজকে বলেন, যতটুকু জানতাম হারুনুর রশীদ অনেক বছর আগে জার্মানি থাকতেন। তবে তাদের এ বন্ধুত্বের সম্পর্কটি বেশ শক্ত। যা সমাজে বিরল। জাগো নিউজকে ধন্যবাদ জানাই এমন দুই বন্ধুর যোগাযোগ ও মিলন ঘটানোর জন্য।

এর আগে ‘সাক্ষাৎ চাই’ শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন মহিরুদ্দিন। সেখানে বাংলাদেশি একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কল দিয়ে জানা যায় ওই নম্বর মো. ওমর ফারুক নামের এক যুবকের। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ শহরে।

মো. ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, মহিরুদ্দিন আগে জার্মানি থাকতেন বর্তমানে কানাডাতে থাকেন। সেখানে আমার চাচা শওকত আলীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শওকত আলী দেশে এসেছেন। তার অনুরোধে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনটি দিয়েছি। হারানো বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি আমরা মহিরুদ্দিনকে জানিয়েছি।

এন কে বি নয়ন/আরএইচ/এএসএম