সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র হালিমুল হক মিরুকে কার্যনির্বাহী কমিটিতে সদস্যপদ দেওয়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হয় বিষয়টি। পরে তাকে বাদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
শনিবার (১১ মার্চ) দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জাগো নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক মেয়র হালিমুল হক মিরুর নাম সদস্যপদ থেকে কেটে দিয়েছে। তবে তার পরিবর্তে ফিরোজ নামে একজনকে নতুন করে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ করলে ২২ ফেব্রুয়ারি ‘আওয়ামী লীগের পদ ফিরে পেলেন শিমুল হত্যা মামলার আসামি মিরু’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে জাগো নিউজ।
২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ওই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে মিরুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২ বছর সাড়ে ৯ মাস তিনি কারাভোগ করেন। মামলাটি বর্তমানে রাজশাহীর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। গ্রেফতারের পরপরই দল থেকে মিরুকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। মেয়র পদ থেকেও তাকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট কে এম হোসেন আলী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আব্দুস সামাদ তালুকদারের নাম ঘোষণা করেন।
সম্মেলনের ১১ মাস ২২ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটি ও ২৭ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে স্থান পান সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক মেয়র হালিমুল হক মিরু।
এ বিষয়ে হালিমুল হক মিরু জাগো নিউজকে বলেন, আমাকে ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। আদালত এখন পর্যন্ত আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। আমি এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাকে সদস্য পদ দেওয়া হলেও ষড়যন্ত্রের কারণে বাদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
এম এ মালেক/এফএ/এএসএম