১৪৪৪ হিজরির রমজান মাসের ১৫তম তারাবিহ আজ। আজকের তারাবিহতে সুরা মুমিনুন, সুরা নুর এবং সুরা ফুরক্বানের ২০নং আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। ক্ষমার বিশেষ দোয়াসহ কিছু গুণ ও অন্যায়ের বিধান পড়া হবে আজ। মুমিনদের সফলতার জন্য বিশেষ গুণ বর্ণনার সুরায় শুরু হবে আজকের তারাবিহ। সফলতা পেতে মুমিনদের প্রথম গুণটিই হলো নামাজে বিনয়ী হওয়া। ১৫ রোজার প্রস্তুতিতে তারাবিহ নামাজে মুমিনের এ সফলতার ঘোষণায় হাফেজে কোরআনগণ তেলাওয়াত করবেন-
قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ الَّذِیۡنَ هُمۡ فِیۡ صَلَاتِهِمۡ خٰشِعُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ عَنِ اللَّغۡوِ مُعۡرِضُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ لِلزَّکٰوۃِ فٰعِلُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ لِفُرُوۡجِهِمۡ حٰفِظُوۡنَ
'মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র, যারা অনর্থক কথা-বার্তা এড়িয়ে চলে, যারা যাকাত দান করে থাকে, এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে...।
সুরা মুমিনুন : ০১-১১৮
মুমিনগণের বৈশিষ্ট্য সম্বলিত সুরাটি মক্কায় নাজিল হয়েছে। এ সুরা মুমিনগণের যে বৈশিষ্ট্য আলোচিত হয়েছে, তা ঈমানেরও গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এ কারণেই এ সুরাটিকে সুরা মুমিনুন হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। সুরাটি নাজিলের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবলামুখী হয়ে দু’হাত তুলে দোয়া করেন-
‘হে আল্লাহ! আমাদের অধিক পরিমাণে দাও, আমাদের কম দিও না। আমাদের সম্মানিত করো, অপমানিত কর না। আমাদের নেয়ামত দান কর, বঞ্চিত কর না। অন্যদের ওপর আমাদের পছন্দ কর, আমাদের ওপর অন্যদের পছন্দ কর না। আমাদের প্রতি তুমি সন্তুষ্ট থাক, আর আমাদের খুশি করে দাও!’
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমার প্রতি দশটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যে এ দশ আয়াতের গুণাবলী অর্জন করলো, সে জান্নাতি হয়ে গেলো। আয়াতগুলো হলো-
قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ الَّذِیۡنَ هُمۡ فِیۡ صَلَاتِهِمۡ خٰشِعُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ عَنِ اللَّغۡوِ مُعۡرِضُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ لِلزَّکٰوۃِ فٰعِلُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ لِفُرُوۡجِهِمۡ حٰفِظُوۡنَ اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِهِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُهُمۡ فَاِنَّهُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ فَمَنِ ابۡتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الۡعٰدُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ لِاَمٰنٰتِهِمۡ وَ عَهۡدِهِمۡ رٰعُوۡنَ ۙ وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ عَلٰی صَلَوٰتِهِمۡ یُحَافِظُوۡنَ ۘ اُولٰٓئِکَ هُمُ الۡوٰرِثُوۡنَ الَّذِیۡنَ یَرِثُوۡنَ الۡفِرۡدَوۡسَ ؕ هُمۡ فِیۡهَا خٰلِدُوۡنَ
'মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে। যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র। যারা অনর্থক কথা-বার্তা এড়িয়ে চলে। যারা যাকাত দান করে থাকে। আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে। আর যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে।আর যারা তাদের নামাযসমূহের খবর রাখে। তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা শীতল ছায়াময় উদ্যানের উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে চিরকাল থাকবে।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১-১১)
আয়াতের অর্থ মুমিনরা অবশ্যই সফলতা অর্জন করেছে অথবা মুমিনরা সফলতা অর্জন করেছে এবং সফলতার উপরই আছে। (ফাতহুল কাদির) তারা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করেছে। (আদওয়াউল বায়ান) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় আয়াতের অর্থ হচ্ছে, যারা তাওহিদের সত্যতায় বিশ্বাসী হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করেছে তারা সৌভাগ্যবান হয়েছে। (বাগভি)
১. যারা তাদের নামাজে ভীতি-অবনত
এ হচ্ছে সফলতা লাভে আগ্রহী মুমিনের প্রথম গুণ। ‘খুশু’ এর অর্থ হচ্ছে, স্থিরতা, অন্তরে স্থিরতা থাকা; অর্থাৎ ঝুঁকে পড়া, দমিত বা বশীভূত হওয়া, বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করা। মুফাসসিরগণ যে অর্থ করেছেন তাহলো- ভীত ও শান্ত থাকা, দৃষ্টি অবনত রাখা, শব্দ নিচু রাখা।
পূর্ণাঙ্গ খুশু হচ্ছে, অন্তরে বাড়তি চিন্তা-ভাবনা ইচছাকৃতভাবে উপস্থিত না করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও স্থিরতা থাকা; অনর্থক নড়াচড়া না করা। বিশেষতঃ এমন নড়াচড়া, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে নিষিদ্ধ করেছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, নামাজের সময় আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি সৰ্বক্ষণ দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন যতক্ষণ না সে অন্য কোনো দিকে দৃষ্টি না দেয়। তারপর যখন সে অন্য কোন দিকে মনোনিবেশ করে, তখন আল্লাহ তাআলা তার দিকে থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন।’ (ইবনে মাজাহ ১০২৩)
২. আর যারা আসার কর্মকাণ্ড থেকে থাকে বিমুখ।
পূর্ণ মুমিনের এটি দ্বিতীয় গুণ। অনর্থক বিষয়াদি থেকে বিরত থাকা। لغو এর অর্থ অসার ও অনর্থক কথা বা কাজ। এর মানে এমন প্রত্যেকটি কথা ও কাজ যা অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন ও যাতে কোন ফল লাভও হয় না। শিরকের অন্তর্ভুক্ত, গুনাহের কাজও এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে (ইবনে কাসির) অনরূপভাবে গান-বাজনাও এর আওতায় পড়ে। (কুরতুবি)
মোটকথা : যেসব কথায় বা কাজে কোন লাভ হয় না, যেগুলোর পরিণাম কল্যাণকর নয়, যেগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই, যেগুলোর উদ্দেশ্যও ভালো নয় সেগুলোর সবই ‘বাজে’ কাজের অন্তর্ভুক্ত। যাতে কোন দ্বীনী উপকার নেই বরং ক্ষতি বিদ্যমান। এ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। রাসুলুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘মানুষ যখন অনর্থক বিষয়াদি ত্যাগ করে, তখন তার ইসলাম সৌন্দর্য মণ্ডিত হতে পারে।’ (তিরমিজি ২৩১৭, ২৩১৮, ইবনে মাজাহ ৩৯৭৬)
এ কারণেই আয়াতে একে কামেল মুমিনদের বিশেষ গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। আয়াতের পূর্ণ বক্তব্য হচ্ছে এই যে, তারা বাজে কথায় কান দেয় না এবং বাজে কাজের দিকে দৃষ্টি ফেরায় না। সে ব্যাপারে কোনো প্রকার কৌতুহল প্রকাশ করে না। যেখানে এ ধরনের কথাবার্তা হতে থাকে অথবা এ ধরনের কাজ চলতে থাকে। সেখানে যাওয়া থেকে দূরে থাকে। তাতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত হয় আর যদি কোথাও তার সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যায় তাহলে তাকে উপেক্ষা করে, এড়িয়ে চলে যায় অথবা অন্ততপক্ষে তা থেকে সম্পর্কহীন হয়ে যায় ৷ একথাটিকেই অন্য জায়গায় এভাবে বলা হয়েছে-
‘যখন এমন কোন জায়গা দিয়ে তারা চলে যেখানে বাজে কথা হতে থাকে অথবা বাজে কাজের মহড়া চলে তখন তারা ভদ্রভাবে সে জায়গা অতিক্রম করে চলে যায়।’ (সুরা আল-ফুরকান: আয়াত ৭২)
৩. এবং যারা জাকাতে সক্রিয়
এটি পূর্ণ মুমিনের তৃতীয় গুণ। তারা জাকাতে সদা তৎপর। এটি জাকাত দেওয়ার অর্থই প্রকাশ করে। (কুরতুবি) এখানে জাকাত দ্বারা আর্থিক জাকাতও হতে পারে আবার আত্মিক পবিত্রতাও উদ্দেশ্য হতে পারে। (ইবনে কাসির) এ বিষয়বস্তুটি কোরআন মাজিদের অন্যান্য স্থানেও বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন- সুরা আল-আলায় বলা হয়েছে, ‘সফলকাম হয়েছে সে ব্যক্তি যে পবিত্রতা অবলম্বন করেছে এবং নিজের রবের নাম স্মরণ করে নামাজ আদায় করেছে।’ সুরা আশ-শামসে বলা হয়েছে, ‘সফলকাম হলো সে ব্যক্তি যে আত্মশুদ্ধি করেছে এবং ব্যর্থ হলো সে ব্যক্তি যে তাকে দলিত করেছে।’
৪. আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে রাখে সংরক্ষিত
পূর্ণ মুমিনের এটি চতুর্থ গুণ। তা হচ্ছে, যৌনাঙ্গকে হেফাজত করা। তারা নিজের দেহের লজ্জাস্থানগুলো ঢেকে রাখে। উলংগ হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং অন্যের সামনে লজ্জাস্থান খোলে না। আর তারা নিজেদের লজ্জাস্থানের সততা ও পবিত্ৰতা সংরক্ষণ করে। যৌন স্বাধীনতা দান করে না এবং কামশক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে লাগামহীন হয় না। যারা স্ত্রী ও যুদ্ধলব্ধ দাসীদের ছাড়া সব পর নারী থেকে যৌনাঙ্গকে হেফাযতে রাখে এবং এই দুই শ্রেণীর সঙ্গে শরিয়তের বিধি মোতাবেক কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থকরা ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে কোনো অবৈধ পন্থায় কামবাসনা পূর্ণ করতে প্ৰবৃত্ত হয় না।
৫. আর যারা রক্ষা করে নিজেদের আমানত...
পূর্ণ মুমিনের পঞ্চম গুণ হচ্ছে, আমানত প্রত্যাৰ্পণ করা। আমানত শব্দের আভিধানিক অর্থে এমন প্রত্যেকটি বিষয় শামিল, যার দায়িত্ব কোনো ব্যক্তি বহন করে এবং সে বিষয়ে কোনো ব্যক্তির উপর আস্থা স্থাপন করা হয়। দ্বীনী বা দুনিয়াবী, কথা বা কাজ যাই হোক। (কুরতুবি)
আল্লাহর হক সম্পর্কিত আমানত হচ্ছে শরিয়ত আরোপিত সকল ফরজ ও ওয়াজিব পালন করা এবং যাবতীয় হারাম ও মাকরূহ বিষয়াদি থেকে আত্মরক্ষা করা বান্দার হক সম্পর্কিত আমানতের মধ্যে আর্থিক আমানতও যে অন্তর্ভুক্ত তা সুবিদিত। কেউ কারও কাছে টাকা-পয়সা গচ্ছিত রাখলে তা তার আমানত প্ৰত্যাৰ্পণ করা পর্যন্ত এর হেফাজত করা তার দায়িত্ব। এছাড়া কেউ কোন গোপন কথা কারও কাছে বললে তাও তাঁর আমানত। শরিয়তসম্মত অনুমতি ছাড়া কারও গোপন তথ্য ফাঁস করা আমানতে খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত।
মুমিনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে কখনো আমানতের খেয়ানত করেন এবং কখনো নিজের চুক্তি ও অংগীকার ভংগ করে না। রাসুলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম প্রায়ই তাঁর ভাষণে বলতেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারীর গুণ নেই তার মধ্যে ঈমান নেই এবং যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার গুণ নেই তার মধ্যে দ্বীনদারী নেই।’ (মুসনাদে আহমাদ ৩/১৩৫)
তাছাড়া অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, চারটি অভ্যাস যার মধ্যে পাওয়া যায় সে নিখাদ মুনাফিক এবং যার মধ্যে এর কোন একটি পাওয়া যাবে সে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে তা মুনাফেকির একটি অভ্যাস হিসেবেই থাকে। সে চারটি অভ্যাস হচ্ছে- কোনো আমানত তাকে সোপর্দ করলে করা হলে সে তার খেয়ানত করে, কখনো কথা বললে মিথ্যা কথা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে এবং যখনই কারো সঙ্গে ঝগড়া করে তখনই (নৈতিকতা ও সততার) সীমালংঘন করে।’ (বুখারি ৩৪, মুসলিম ৫৮)
৬. ... ও প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে
পূর্ণ মুমিনের ষষ্ঠ গুণ হচ্ছে, অঙ্গীকার পূর্ণ করা। আমানত সাধারণত যার উপর মানুষ কাউকে নিরাপদ মনে করে। আর অঙ্গীকার বলতে বুঝায় আল্লাহর পক্ষ থেকে বা বান্দার পক্ষ থেকে যে সমস্ত অঙ্গীকার বা চুক্তি হয়। আমানত ও অঙ্গীকার একসাথে বলার কারণে দ্বীন-দুনিয়ার যা কিছু কারও উপর দায়িত্ব দেওয়া হয় সবই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। (ফাতহুল কাদির)
৭. আর যারা নিজেদের নামাজে থাকে যত্নবান
পূর্ণ মুমিনের সপ্তম গুণ হচ্ছে, নামাজে যত্নবান হওয়া। উপরের খুশূর আলোচনায় নামাজ শব্দ এক বচনে বলা হয়েছিল আর এখানে বহুবচনে ‘নামাজসমূহ’ বলা হয়েছে। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, সেখানে লক্ষ্য ছিল মূল নামাজ আর এখানে পৃথক পৃথকভাবে প্রতিটি ওয়াক্তের নামাজ সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। ‘নামাজগুলোর সংরক্ষণ’ এর অর্থ হচ্ছে- সে নামাজের সময়, নামাজের নিয়ম-কানুন, আরকান ও আহকাম, প্রথম ওয়াক্ত, রুকু-সেজদা; মোটকথা নামাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি জিনিসের প্রতি পুরোপুরি নজর রাখে। (কুরতুবি; ইবনে কাসির)
যারা অধিকারী হবে ফিরদাউসের; যাতে তারা হবে স্থায়ী
জান্নাতের সবচেয়ে বেশি পরিচিত প্রতিশব্দ ‘ফিরদাউস’। মানব জাতির বেশিরভাগ ভাষায়ই এ শব্দটি পাওয়া যায়। ফিরদাউস শব্দটি রুমী ভাষায় বাগানকে বলা হয়। কোনো কোনো মনীষী বলেন, বাগানকে তখনই ফেরদাউস বলা হবে, যখন তাতে আঙুর থাকবে। (ইবনে কাসির) কোরআনের দুটি স্থানে এ শব্দটি এসেছে। বলা হয়েছে- ‘তাদের আপ্যায়নের জন্য ফিরদাউসের বাগানগুলো আছে।’ (সুরা আল-কাহফ: আয়াত ১০৭) আর এ সূরায় বলা হয়েছে, ‘যারা অধিকারী হবে ফিরদাউসের, যাতে তারা হবে চিরস্থায়ী।’ (সুরা মুমিনুন: আয়াত ১১)
হাদিসে ফিরদাউসের পরিচয়
অনুরূপভাবে ফিরদৌসের পরিচয় বিভিন্ন হাদিসেও বিস্তারিত এসেছে। এক হাদিসে এর পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, জান্নাতের রয়েছে একশটি স্তর। যা মহান আল্লাহ তাঁর পথে জেহাদকারীদের জন্য তৈরি করেছেন। প্রতি দু’ স্তরের মাঝের ব্যবধান হলো আসমান ও যমীনের মাঝের ব্যবধানের সমান। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন তার কাছে ফিরদাউস চাইবে; কেননা সেটি জান্নাতের মধ্যমনি এবং সর্বোচ্চ জন্নাত। আর তার উপরেই রয়েছে দয়াময় আল্লাহর আরশ। সেখান থেকেই জান্নাতের নালাসমূহ প্রবাহিত৷’ (বুখারি ২৬৩৭)
উল্লেখিত গুণে গুণান্বিত লোকদের এই আয়াতে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিকারী বা ওয়ারিশ বলা হয়েছে। ওয়ারিশ বলার মধ্যে ইঙ্গিত আছে যে, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি যেমন ওয়ারিশদের মালিকানায় আসা অমোঘ ও অনিবাৰ্য, তেমনি এসব গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিদের জান্নাত প্রবেশও সুনিশ্চিত।
কোনো কোনো মনীষী বলেন, মুমিনরা জন্নাতের কাফেরদের স্থানসমূহেরও মালিক হবে। তারা আনুগত্যের মাধ্যমে এ অতিরিক্ত পুরস্কার লাভ করবে। বরং হাদিসে এটাও এসেছে যে, ‘কেয়ামতের দিন কিছু মুসলিম পাহাড় পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আসবে, তারপর আল্লাহ তাদের সে গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং সেগুলোকে ইহুদি ও নাসারাদের উপর রাখবেন।’ (মুসলিম ২৭৬৭)
এ আয়াতটির মত অন্য আয়াত হচ্ছে, ‘এ সে জান্নাত, যার অধিকারী করব আমি আমার বান্দাদের মধ্যে মুত্তাকীদের’ (সুরা মারইয়াম: আয়াত ৬৩) ‘আর এটাই জান্নাত, তোমাদের যার অধিকারী করা হয়েছে, তোমাদের কাজের ফলস্বরূপ।’ (সুরা আয-যুখরুফ: আয়াত ৭২)
সফলকামদের এ গুণগুলোর শুরু হয়েছিল নামাজ দিয়ে আর শেষও হয়েছে নামাজ দিয়ে। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, সালাত শ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট ইবাদাত। হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা দৃঢ়তা অবলম্বন কর, তবে তোমরা কখনও পুরোপুরি দৃঢ়পদ থাকতে পারবে না। জেনে রাখা যে, তোমাদের সর্বোত্তম আমল হচ্ছে নামাজ। আর মুমিনই কেবল ওযুর ব্যাপারে যত্নবান হয়।’ (ইবনে মাজহ ২৭৭)
আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবিকা হিসেবে ফল ও প্রাণীসহ অনেক নেয়ামত দান করেছেন। যার বর্ণনা এসেছে এ সুরায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَ اَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسۡکَنّٰهُ فِی الۡاَرۡضِ ٭ۖ وَ اِنَّا عَلٰی ذَهَابٍۭ بِهٖ لَقٰدِرُوۡنَ فَاَنۡشَاۡنَا لَکُمۡ بِهٖ جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّ اَعۡنَابٍ ۘ لَکُمۡ فِیۡهَا فَوَاکِهُ کَثِیۡرَۃٌ وَّ مِنۡهَا تَاۡکُلُوۡنَ وَ شَجَرَۃً تَخۡرُجُ مِنۡ طُوۡرِ سَیۡنَآءَ تَنۡۢبُتُ بِالدُّهۡنِ وَ صِبۡغٍ لِّلۡاٰکِلِیۡنَ
'আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণ মত অতঃপর আমি জমিনে সংরক্ষণ করি এবং আমি তা অপসারণও করতে সক্ষম।অতপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্যে খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করেছি। তোমাদের জন্যে এতে প্রচুর ফল আছে এবং তোমরা তা থেকে আহার করে থাক। এবং ঐ বৃক্ষ সৃষ্টি করেছি, যা সিনাই পর্বতে জন্মায় এবং আহারকারীদের জন্যে তৈল ও ব্যঞ্জন উৎপন্ন করে।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১৮-২০)
وَ اِنَّ لَکُمۡ فِی الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَۃً ؕ نُسۡقِیۡکُمۡ مِّمَّا فِیۡ بُطُوۡنِهَا وَ لَکُمۡ فِیۡهَا مَنَافِعُ کَثِیۡرَۃٌ وَّ مِنۡهَا تَاۡکُلُوۡنَ وَ عَلَیۡهَا وَ عَلَی الۡفُلۡکِ تُحۡمَلُوۡنَ
'এবং তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সমূহের মধ্যে চিন্তা করার বিষয় রয়েছে। আমি তোমাদেরকে তাদের উদরস্থিত বস্তু থেকে পান করাই এবং তোমাদের জন্যে তাদের মধ্যে প্রচুর উপকারিতা আছে। তোমরা তাদের কতককে ভক্ষণ কর। তাদের পিঠে ও জলযানে তোমরা আরোহণ করে চলাফেরা করে থাক।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ২১-২২)
এরপর আল্লাহ তাআলা এমন নেয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন, যা থেকে মানুষ শিক্ষা গ্ৰহণ করে এবং আল্লাহ তাআলার অপার শক্তি ও অপরিসীম রহমতের কথা স্মরণ করে তাওহিদ ও ইবাদতে মশগুল হয়। বলা হয়েছে, তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্যে শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। তারপর এর কিছু বিবরণ এভাবে দেয়া হয়েছে যে, এসব জন্তুর পেটে আমি তোমাদের জন্যে পাক-সাফ দুধ তৈরি করেছি, যা মানুষের উৎকৃষ্ট খাদ্য। এ সম্পর্কে কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে, রক্ত ও গোবরের মাঝখানে এটি আর একটি তৃতীয় জিনিস।’ (সুরা আন-নাহল: আয়াত ৬৬)
মূলতঃ পশুর খাদ্য থেকে এটি সৃষ্টি করা হয়ে থাকে। এরপর বলা হয়েছে শুধু দুধই নয়। এসব জন্তুর মধ্যে তোমাদের অনেক উপকারিতা রয়েছে। চিন্তা করলে দেখা যায়, জন্তুদের দেহের প্রতিটি অংশ মানুষের কাজে আসে এবং তার দ্বারা মানুষের জীবনধারণের অসংখ্য সরঞ্জাম তৈরি হয়। জন্তুদের পশম, অস্থি, অন্ত্র ইত্যাদি প্রতিটি অংশ দ্বারা মানুষ জীবিকার কত যে সাজ-সরঞ্জাম তৈরি করে, তা গণনা করা কঠিন। এসব উপকার ছাড়া আরও একটি বড় উপকার এই যে, এগুলোর মধ্য থেকে যে সমস্ত জন্তু হালাল সেগুলোর গোশত মানুষের সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য।’ (ইবনে কাসির)
এখানে সবশেষে জানোয়ারদের আরও একটি মহা উপকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, তোমরা তাদের পিঠে আরোহণও কর এবং মাল পরিবহনেরও কাজে নিযুক্ত কর। এই শেষ উপকারের মধ্যে জন্তুদের সঙ্গে নদীতে চলাচলকারী নৌকাও শরিক আছে। মানুষ নৌকায় আরোহণ করে এবং একস্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়। তাই এর সঙ্গে নৌকার আলোচনা করা হয়েছে। কোনো কোনো মুফাসসির বলেন, এখানে গবাদি পশু ও নৌযানকে একত্রে উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে এই যে, আরববাসীরা আরোহণ ও বোঝা বহন উভয় কাজের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উট ব্যবহার করতো এবং উটের জন্য ‘স্থল পথের জাহাজ’ উপমাটি অনেক পুরানো।’ (আদওয়াউল বায়ান)
এ সুরায় হজরত নুহ আলাইহিস সালামের বর্ণনা এসেছে। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
قَالَ رَبِّ انۡصُرۡنِیۡ بِمَا کَذَّبُوۡنِ
'নুহ (আলাইহিস সালাম) বলেছিল, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সাহায্য করুন; কেননা, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।' (সুরা মুমিনন : আয়াত ২৬)
আমার প্রতি এভাবে মিথ্যা আরোপ করার প্রতিশোধ নিন। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘কাজেই নুহ নিজের রবকে ডেকে বললেন, আমাকে দমিত করা হয়েছে, এখন আপনিই এর বদলা নিন।’ (সুরা আল-কামার: আয়াত ১০) অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘আর নুহ বললো, হে আমার রব! এ পৃথিবীতে কাফেরদের মধ্য থেকে একজন অধিবাসীকেও ছেড়ে দিবেন না। যদি আপনি তাদেরকে থাকতে দেন তাহলে তারা আপনার বান্দাদের গোমরাহ করে দেবে এবং তাদের বংশ থেকে কেবল দুষ্কৃতকারী ও সত্য অস্বীকারকারীরই জন্ম হবে।’ (সুরা নুহ: আয়াত ২৬-২৭)
নুহ আলাইহিস সালামকে সাহায্য করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা তার অবাধ্য জাতিকে মহাদুর্যোগ দিয়ে ধ্বংস করে দেন আর যারা আল্লাহ ও নবি নুহ আলাইহিস সালামের অনুসারি তাদের হেফাজত করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡهِ اَنِ اصۡنَعِ الۡفُلۡکَ بِاَعۡیُنِنَا وَ وَحۡیِنَا فَاِذَا جَآءَ اَمۡرُنَا وَ فَارَ التَّنُّوۡرُ ۙ فَاسۡلُکۡ فِیۡهَا مِنۡ کُلٍّ زَوۡجَیۡنِ اثۡنَیۡنِ وَ اَهۡلَکَ اِلَّا مَنۡ سَبَقَ عَلَیۡهِ الۡقَوۡلُ مِنۡهُمۡ ۚ وَ لَا تُخَاطِبۡنِیۡ فِی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ۚ اِنَّهُمۡ مُّغۡرَقُوۡنَ
'অতঃপর আমি তার কাছে আদেশ প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার নির্দেশে নৌকা তৈরী কর। এরপর যখন আমার আদেশ আসে এবং চুল্লী প্লাবিত হয়, তখন নৌকায় তুলে নাও, প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া এবং তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাদের ছাড়া। এবং তুমি জালেমদের সম্পর্কে আমাকে কিছু বলো না। নিশ্চয় তারা নিমজ্জত হবে।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ২৭)
হজরত নুহ আলাইহিস সালামের কৃতজ্ঞতা
বিপদে নৌকায় আরোহন করে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং বিপদ শেষে নৌকা থেকে অবতরণ করেও শুকরিয়া আদায় করেন হজরত নুহ আলাইহিস সালাম। এ দোয়া মানুষের জন্য শিক্ষণীয়। মানুষ বিপদে যেমন এ দোয়া পড়বে আবার কোনো যানবাহন থেকে নিরাপদ অবতরণ করতেও এ দোয়া পড়বে। আল্লাহ যা বান্দার জন্য নেয়ামতস্বরপ সুরা মুমিনুনে নাজিল করেছেন। আর তাহলো-
'যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌকায় আরোহণ করবে, তখন বল-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَجَّانَا مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ : 'আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি নাঝ্ঝানা মিনাল ক্বাওমিজ জ্বালিমিন।'
অর্থ : আল্লাহর শোকর, যিনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ২৮)
(অবতরণের সময়) আরও বলুন-
رَّبِّ أَنزِلْنِي مُنزَلًا مُّبَارَكًا وَأَنتَ خَيْرُ الْمُنزِلِينَ
উচ্চারণ : রাব্বি আংযিলনি মুংযালাম মুবারাকাও ওয়া আংতা খাইরুল মুংযিলিন।'
অর্থ : (হে আমার) পালনকর্তা! আমাকে কল্যাণকর ভাবে নামিয়ে দাও, তুমি শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ২৯)
সত্যের বাণী প্রচারে আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। যারাই নবি-রাসুলদের অবিশ্বাস করেছে, তারাই আজাব-গজব ও ধ্বংসে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
ثُمَّ اَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا تَتۡرَا ؕ کُلَّمَا جَآءَ اُمَّۃً رَّسُوۡلُهَا کَذَّبُوۡهُ فَاَتۡبَعۡنَا بَعۡضَهُمۡ بَعۡضًا وَّ جَعَلۡنٰهُمۡ اَحَادِیۡثَ ۚ فَبُعۡدًا لِّقَوۡمٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ
'এরপর আমি পর্যায়ক্রমে আমার রাসুল পাঠিয়েছি। যখনই কোনো উম্মতের কাছে তাঁর রাসুল আগমন করেছেন, তখনই তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে। অতপর আমি তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি এবং তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি। সুতরাং ধ্বংস হোক অবিশ্বাসীরা।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৪৪)
সব নবি-রাসুলের উম্মতরা একই মাওলার অনুসারি। সবার প্রভু একজন। কেউ আগে এসেছে কেউ পরে এসেছে। সবারই মিশন এক ও অভিন্ন। সে কথার ঘোষণাও এসেছে এ সুরায়। আল্লাহ বলেন-
وَ اِنَّ هٰذِهٖۤ اُمَّتُکُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّ اَنَا رَبُّکُمۡ فَاتَّقُوۡنِ
'আপনাদের এই সব উম্মত তো একই ধর্মের অনুসারী এবং আমি আপনাদের পালনকর্তা; অতএব আমাকে ভয় করুন।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৫২)
যেসব লোক আল্লাহর ভয়ে তার দেয়া সম্পদ থেকে গরিব-অসহায়দের দান করে তাদের মর্যাদাও এ সুরায় ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَ الَّذِیۡنَ یُؤۡتُوۡنَ مَاۤ اٰتَوۡا وَّ قُلُوۡبُهُمۡ وَجِلَۃٌ اَنَّهُمۡ اِلٰی رَبِّهِمۡ رٰجِعُوۡنَ اُولٰٓئِکَ یُسٰرِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ وَ هُمۡ لَهَا سٰبِقُوۡنَ
'আর যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তারাই দ্রুত কল্যাণ অর্জন করে এবং তারা তাতে অগ্রগামী থাকবে।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৬০-৬১)
আল্লাহর অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘনের অপরাধ থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। আর তা তারই শেখানো ভাষায় করা উত্তম। আল্লাহ তাআলা সে আবেদনের ভাষা তুলে ধরেছেন এভাবে-
رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِي فِي الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ : 'রাব্বি ফালা তাঝআলনি ফিল ক্বাওমিজ জ্বালিমিন।'
অর্থ : 'হে আমার পালনকর্তা! তবে আপনি আমাকে গোনাহগার সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত করবেন না।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৯৪)
যে কারো মন্দ বা খারাপ কথার উত্তর কিভাবে দিতে হবে তাও বলে দিয়েছেন। আবার মন্দ কথার উত্তম জবাব দেয়ার পর আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার ভাষাও তুলে ধরেছেন এ সুরায়। আল্লাহ বলেন-
'মন্দের জওয়াবে তাই বলুন, যা উত্তম। তারা যা বলে, আমি সে বিষয়ে সবিশেষ অবগত। আর (আপনি) বলুন-
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ - وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ : 'রাব্বি আউজুবিকা মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিন - ওয়া আউজুবিকা রাব্বি আইঁইয়াহদুরুন।'
হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি, আর হে আমার পালনকর্তা! আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি।'
যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, হে আমার পালণকর্তা! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৯৬-৯৯)
পথহারা মানুষ সঠিক পথ লাভের পর মহান আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করবে। যাতে মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে সঠিক পথের ওপর চলার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ বলেন-
'তারা বলবে-
رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ - رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ
উচ্চারণ : 'রাব্বানা গালাবাত আলাইনা শিক্বওয়াতুনা ওয়া কুন্না ক্বাওমাং দাল্লিন। রাব্বানা আখরিঝনা মিনহা ফাইন্না উদনা ফাইন্না জ্বালেমুন।'
অর্থ : 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা দূর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের পালনকর্তা! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর; আমরা যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা গোনাহগার হব।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৬-১০৭)
মুমিন ব্যক্তি ক্ষমা লাভে আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করবে-
'আমার বান্দাদের একদলে বলত-
رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ : 'রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।'
অর্থ : 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৯)
সর্বশেষ আয়াতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার দরবারে এভাবে প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন-
'(হে রাসুল! আপনি) বলুন-
رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ : 'রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।'
অর্থ : 'হে আমার পালনকর্তা! ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি শ্রেষ্ট রহমকারী।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১১৮)
সুরা নুর : ০১-৬৪
সুরা নুর মদিনায় অবতীর্ণ হয়। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা অনেক বিধি-বিধান, শাসন-শৃঙ্খলা এবং তাওহিদের বর্ণনা করেছেন। চারিত্রিক ও নৈতিক মানোন্নয়নের ওপর এ সুরায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
سُوۡرَۃٌ اَنۡزَلۡنٰهَا وَ فَرَضۡنٰهَا وَ اَنۡزَلۡنَا فِیۡهَاۤ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ لَّعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ
'এটা একটা সুরা যা আমি নাযিল করেছি, এবং দায়িত্বে অপরিহার্য করেছি। এতে আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।' (সুরা নুর : আয়াত ১)
সাঈদ ইবনে মনসুর, ইবনুল মুনজির, বাইহাকি মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা পুরুষদের সুরা মায়িদা শেখাও, আর তোমাদের স্ত্রীদেরকে সুরা নুর শেখাও।
তাছাড়া সুরা নুরের বিশেষত্বের কারণে হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলতেন, তোমরা স্ত্রীলোকদেরকে সুরা নূর শিক্ষা দাও। এ সুরার মূল বক্তব্য ও আলোচ্যসূচি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-
> এ সুরায় ব্যভিচারের শাস্তি বর্ণনা এসেছে; আল্লাহ বলেন-
اَلزَّانِیَۃُ وَ الزَّانِیۡ فَاجۡلِدُوۡا کُلَّ وَاحِدٍ مِّنۡهُمَا مِائَۃَ جَلۡدَۃٍ ۪ وَّ لَا تَاۡخُذۡکُمۡ بِهِمَا رَاۡفَۃٌ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰهِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ۚ وَ لۡیَشۡهَدۡ عَذَابَهُمَا طَآئِفَۃٌ مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
'ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ' করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।' (সুরা নুর : আয়াত ২)
> ব্যভিচারের অপবাদের শাস্তির ঘোষণা এসেছে। মুনাফিকরা উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়েছিল, এ সুরায় তাদের শাস্তির ঘোষণা করা হয়েছে-
وَ الَّذِیۡنَ یَرۡمُوۡنَ الۡمُحۡصَنٰتِ ثُمَّ لَمۡ یَاۡتُوۡا بِاَرۡبَعَۃِ شُهَدَآءَ فَاجۡلِدُوۡهُمۡ ثَمٰنِیۡنَ جَلۡدَۃً وَّ لَا تَقۡبَلُوۡا لَهُمۡ شَهَادَۃً اَبَدًا ۚ وَ اُولٰٓئِکَ هُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ اِلَّا الَّذِیۡنَ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ وَ اَصۡلَحُوۡا ۚ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
'যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই নাফারমান। কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।' (সুরা নুর : আয়াত ৪-৫)
وَ الَّذِیۡنَ یَرۡمُوۡنَ اَزۡوَاجَهُمۡ وَ لَمۡ یَکُنۡ لَّهُمۡ شُهَدَآءُ اِلَّاۤ اَنۡفُسُهُمۡ فَشَهَادَۃُ اَحَدِهِمۡ اَرۡبَعُ شَهٰدٰتٍۭ بِاللّٰهِ ۙ اِنَّهٗ لَمِنَ الصّٰدِقِیۡنَ وَ الۡخَامِسَۃُ اَنَّ لَعۡنَتَ اللّٰهِ عَلَیۡهِ اِنۡ کَانَ مِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ
'আর যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোনো সাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। আর পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।' (সুরা নুর : আয়াত ৬-৭)
وَ یَدۡرَؤُا عَنۡهَا الۡعَذَابَ اَنۡ تَشۡهَدَ اَرۡبَعَ شَهٰدٰتٍۭ بِاللّٰهِ ۙ اِنَّهٗ لَمِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ وَ الۡخَامِسَۃَ اَنَّ غَضَبَ اللّٰهِ عَلَیۡهَاۤ اِنۡ کَانَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ
‘আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চার বার সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আর পঞ্চমবার বলে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে।' (সুরা নুর : আয়াত ৮-৯)
> এ সুরায় নিজ ঘর ছাড়া অন্যদের ঘরে প্রবেশের নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَدۡخُلُوۡا بُیُوۡتًا غَیۡرَ بُیُوۡتِکُمۡ حَتّٰی تَسۡتَاۡنِسُوۡا وَ تُسَلِّمُوۡا عَلٰۤی اَهۡلِهَا ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ فَاِنۡ لَّمۡ تَجِدُوۡا فِیۡهَاۤ اَحَدًا فَلَا تَدۡخُلُوۡهَا حَتّٰی یُؤۡذَنَ لَکُمۡ ۚ وَ اِنۡ قِیۡلَ لَکُمُ ارۡجِعُوۡا فَارۡجِعُوۡا هُوَ اَزۡکٰی لَکُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِیۡمٌ
'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ব্যতিত অন্য ঘরে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং ঘরের লোকদের সালাম না কর (তাতে প্রবেশ কর না)। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। যদি তোমরা ঘরে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।' (সুরা নুর : আয়াত ২৭-২৮)
এ আয়াতে অন্য কারো ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়ার বিধান আলোকপাত করা হয়েছে। অন্য কারো ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়ার বিধানে প্রতিটি ঈমানদার নারী, পুরুষ, মাহরাম ও গায়র-মাহরাম সবাই শামিল রয়েছে। আতা ইবন আবী রাবাহ বৰ্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, ‘অনুমতি নেওয়া মানুষ অস্বীকার করছে, বর্ণনাকারী বলল, আমি বললাম, আমার কিছু এতিম বোন রয়েছে, তারা আমার কাছে আমার ঘরেই প্রতিপালিত হয়, আমি কি তাদের কাছে যাবার সময় অনুমতি নেব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি কয়েকবার তার কাছে সেটা উত্থাপন করে এ ব্যাপারে ব্যতিক্রম করার অনুরোধ করলাম। কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন এবং বললেন, তুমি কি তাদেরকে উলঙ্গ দেখতে চাও? (বুখারি, আদাবুল মুফরাদ ১০৬৩)
ইমাম মালেক মুয়াত্তা গ্রন্থে আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, আমি আমার মায়ের কাছে যাওয়ার সময়ও অনুমতি চাইব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, অনুমতি চাও। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো আমার মায়ের ঘরেই বসবাস করি। তিনি বললেন, তবুও অনুমতি না নিয়ে ঘরে যাবে না। লোকটি আবার বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো সর্বদা তার কাছেই থাকি। তিনি বললেন, তবুও অনুমতি না নিয়ে ঘরে যাবে না। তুমি কি তোমার মাকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখা পছন্দ কর? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাই অনুমতি চাওয়া আবশ্যক।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালেক ১৭২৯)
দ্বিতীয় কাজ এই যে, ঘরের লোকদের সালাম কর। কোনো কোনো মুফাসসির এর অর্থ নিয়েছেন যে, প্রথমে অনুমতি নেওয়া এবং ঘরে প্রবেশের সময় সালাম কর। কুরতুবি এই অর্থই পছন্দ করেছেন। এই অর্থের দিক দিয়ে আয়াতে অগ্র-পশ্চাত নেই। কোনো কোনো আলেম বলেন, ‘যদি অনুমতি নেওয়ার আগে ঘরের কোনো ব্যক্তির উপর দৃষ্টি পড়ে, তবে প্রথমে সালাম করবে, এরপর অনুমতি চাইবে। নতুবা প্রথমে অনুমতি নেবে এবং ঘরে প্রবেশ করার সময় সালাম করবে। (বাগভি)
কিন্তু অধিকাংশ হাদিস থেকে সুন্নত তরিকা এটাই জানা যায় যে, প্রথমে বাইরে থেকে সালাম করবে, এরপর নিজের নাম নিয়ে বলবে যে, অমুক ব্যক্তি সাক্ষাত করতে চায়। হাদিসগুলো থেকে প্রথমে সালাম ও পরে প্রবেশের অনুমতি গ্রহণের বিষয় প্রমাণিত হয়েছে। এতে নিজের নাম উল্লেখ করে অনুমতি চাওয়াই উত্তম। হাদিসে আছে, হজরত আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলেন এবং অনুমতি চাওয়ার জন্য বললেন-
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ هَذَا عَبْدُ اللهِ بْنُ قَيْسٍ، السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ هَذَا أَبُو مُوسَى، السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ هَذَا الأشْعَري (মুসলিম ২১৫৪)
এতেও তিনি প্রথমে নিজের নাম আবু মুসা বলেছেন, এরপর আরো নির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্য আল-আশআরি বলেছেন।
এ হুকুমটি নাজিল হওয়ার পর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেসব নিয়ম ও রীতিনীতির প্রচলন করেন নীচে সেগুলোর কিছু বর্ণনা করা হলো-
১. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তার এ অধিকারটিকে কেবল ঘরের চৌহদ্দীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং একে একটি সাধারণ অধিকার গণ্য করেন। এ প্রেক্ষিতে অন্যের ঘরে উঁকি ঝুঁকি মারা, বাহির থেকে চেয়ে দেখা নিষিদ্ধ। এক ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলেন। এবং ঠিক তার দরজার উপর দাঁড়িয়ে অনুমতি চাইলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ‘পেছনে সরে গিয়ে দাঁড়াও, যাতে দৃষ্টি না পড়ে। সে জন্যই তো অনুমতি চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ (আবু দাউদ ৫১৭৪)
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজের নিয়ম ছিল এই যে, যখন কারোর বাড়িতে যেতেন, দরজার ঠিক সামনে কখনো দাঁড়াতেন না। তিনি দরজার ডান পাশে বা বাম পাশে দাঁড়িয়ে অনুমতি চাইতেন। (আবু দাউদ ৫১৮৬)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খাদেম হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি বাইরে থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কামরার মধ্যে উঁকি দিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে সে সময় একটি তীর ছিল। তিনি তার দিকে এভাবে এগিয়ে এলেন যেন তীরটি তার পেটে ঢুকিয়ে দেবেন। (আবু দাউদ ৫১৭১)
অপর বর্ণনায় এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি তোমার ঘরে উঁকি মারে এবং তুমি একটি কাঁকর মেরে তার চোখ কানা করে দাও, তাহলে তাতে কোনো গুনাহ হবে না।’ (মুসলিম ২১৫৮, মুসনাদে আহমাদ ২/২২৩, ২/৪২৮)
অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কারোর ঘরে উঁকি মারে এবং ঘরের লোকেরা তার চোখ ছেদা করে দেয়, তবে তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হবে না।’ (আবু দাউদ ৫১৭২)
২. কেবলঅন্যের ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি নেওয়ার হুকুম দেওয়া হয়নি বরং নিজের মা-বোনদের কাছে যাবার সময়ও অনুমতি নিতে হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘নিজের মা-বোনদের কাছে যাবার সময়ও অনুমতি নিয়ে যাও।’ (ইবনে কাসির)
৩. প্রথম যখন অনুমতি চাওয়ার বিধান জারি হয় তখন লোকেরা তার নিয়ম কানুন জানতো না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত শিক্ষা দেন। যেমন-
> তাদেরকে ঘরে ঢুকার অনুমতির জন্য সঠিক শব্দ নির্বাচন করা শিখিয়ে দেন। একবার এক ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসে এবং দরজা থেকে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘আমি কি ভেতরে ঢুকে যাবো?’ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার খাদেমকে বললেন, এ ব্যক্তি অনুমতি চাওয়ার নিয়ম জানে না। একটু উঠে গিয়ে তাকে বলে এসো, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি কি ভিতরে আসতে পারি?’ বলতে হবে।’ (আবু দাউদ ৫১৭৭)
> তাদেরকে নিজের পরিচয় স্পষ্টভাবে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ বলেন, আমি আমার বাবার ঋণের ব্যাপারে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলাম এবং দরজায় করাঘাত করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে? আমি বললাম, আমি। তিনি দু-তিনবার বললেন, “আমি? আমি?” অর্থাৎ এখানে আমি বললে কে কি বুঝবে যে, তুমি কে? (বুখারি ৬২৫০, মুসলিম ২১৫৫, আবু দাউদ ৫১৮৭)
এতে বুঝা গেল যে, অনুমতি চাওয়ার সঠিক পদ্ধতি ছিল, মানুষ নিজের নাম বলে অনুমতি চাইবে। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু অনুমতি নেওয়ার ক্ষেত্রে বলতেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, হে আল্লাহর রাসুল! ওমর কি ভেতরে যাবে?’ (আবু দাউদ ৫২০১)
> সালাম ছাড়া কেউ ঢুকে গেলে তাকে ফেরত দিয়ে সালামের মাধ্যমে ঢুকা শিখিয়ে দিলেন। এক ব্যক্তি কোনো কাজে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলেন। সালাম ছাড়াই এমনিই সেখানে গিয়ে বসলেন। তিনি বললেন, বাইরে যাও এবং আসসালামু আলাইকুম বলে ভেতরে এসো।’ (আবু দাউদ ৫১৭৬)
> অনুমতি লাভের জন্য সালাম দেওয়া। অনুমতি নেওয়ার জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় জোর তিনবার ডাক দেওয়ার সীমা নির্দেশ করেছেন এবং বলেছেন যদি তিনবার ডাক দেওয়ার পরও জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে ফিরে যাও। হজরত আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসলেন এবং তিনবার সালাম দিলেন। কিন্তু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো উত্তর না করায় তিনি ফিরে চললেন। তখন লোকেরা বলল, আবু মুসা ফিরে যাচ্ছে। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তাকে ফিরিয়ে আন, তাকে ফিরিয়ে আন। ফিরে আসার পর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি ফিরে যাচ্ছিলে কেন? আমরা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আবু মুসা বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ‘অনুমতি তিন বার, যদি তাতে অনুমতি দেয় ভাল, নতুবা ফিরে যাও।’ (বুখারি ৬২৪৫, মুসলিম ২১৫৪)
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। একবার তিনি সাদ ইবনে উবাদার বাড়িতে গেলেন এবং আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে দু’বার অনুমতি চাইলেন। কিন্তু ভেতর থেকে জবাব এলো না। তৃতীয় বার জবাব না পেয়ে ফিরে গেলেন। সাদ ভেতর থেকে দৌড়ে এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার আওয়াজ শুনছিলাম। কিন্তু আমার মন চাচ্ছিল আপনার মুবারক কণ্ঠ থেকে আমার জন্য যতবার সালাম ও রহমতের দোয়া বের হয় ততই ভালো, তাই আমি খুব নীচু স্বরে জবাব দিচ্ছিলাম।’ (আবু দাউদ ৫১৮৫, মুসনাদে আহমাদ ৩/১৩৭)
> অনুরূপভাবে কেউ যদি সফর হতে ফিরে আসে তবে আপন স্ত্রীর কাছে যাবার আগেও অনুমতি নিয়ে যাওয়া সুন্নত। যাতে তাকে অপ্ৰস্তুত অবস্থায় না পায়। (বুখারি ৫০৭৯, মুসলিম ৭১৫)
>> এ সুরায় মুমিন পুরুষদের ওপর পর্দার বিধান দিয়ে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَغُضُّوۡا مِنۡ اَبۡصَارِهِمۡ وَ یَحۡفَظُوۡا فُرُوۡجَهُمۡ ؕ ذٰلِکَ اَزۡکٰی لَهُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ خَبِیۡرٌۢ بِمَا یَصۡنَعُوۡنَ
'মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।' (সুরা নুর : আয়াত ৩০)
>> আবার নারীদেরকে সম্বোধন করে পর্দার বিধান জানিয়ে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-
'ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।' (সুরা নুর : আয়াত ৩১)
>> যাদের জান্য পর্দার বিধানে শিথিলতা আছে। তবে তাদের জন্যও পর্দা করা উত্তম। তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন-
- 'বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের বস্ত্র খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।' (সুরা নুর : আয়াত ৬০)
সুরা ফুরক্বান : ০১-২০
সুরা ফুরকান হিজরতের আগে এমন এক সময় মক্কায় নাজিল হয় যখন আরবের অবিশ্বাসীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরামের ওপর সীমাহীন নির্যাতন করছিল। তারা ছিল গোমরাহীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন, অন্যায়-অনাচার, জুলুম-অত্যাচার এক কথায় যাবতীয় পাপাচারে লিপ্ত।
তারা এ কথাটি বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর বাণী নাজিল করেছেন, যিনি চল্লিশটি বসন্ত তাদের মাঝেই পরিচ্ছন্ন জীবন অতিবাহিত করেছেন।
এ সুরায় হক্ব ও বাতিল সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে এবং সত্য ও অসত্যের মধ্যে বিশেষভাবে পার্থক্য দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই এ সুরার নামকরণ করা হয়েছে ফুরকান।
তাওহিদ, রিসালাত ও কিয়ামাত সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয়ের আলোচনার পাশাপাশি যার প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তকে অস্বীকার করতো, তাদের যাবতীয় সন্দেহ-সংশয়ের খণ্ডন করা হয়েছে এ সুরায়।
সুরাটির আজকের তারাবিহ-এর অংশে প্রত্যেক সৃষ্ট বস্তুর বিশেষ রহস্য এবং তার আকার, গঠন, প্রতিক্রিয়া ও বৈশিষ্ট্য আলোচিত হয়েছে। তাছাড়া মানব সমাজের অর্থনৈতিক সাম্যের ব্যাপারে আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ নিজের পরিচয় ও সত্যতার কথা তুলে ধরে বলেন-
تَبٰرَکَ الَّذِیۡ نَزَّلَ الۡفُرۡقَانَ عَلٰی عَبۡدِهٖ لِیَکُوۡنَ لِلۡعٰلَمِیۡنَ نَذِیۡرَا الَّذِیۡ لَهٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ لَمۡ یَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّ لَمۡ یَکُنۡ لَّهٗ شَرِیۡکٌ فِی الۡمُلۡکِ وَ خَلَقَ کُلَّ شَیۡءٍ فَقَدَّرَهٗ تَقۡدِیۡرًا
'পরম কল্যাণময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফয়সালার গ্রন্থ অবর্তীণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্যে সতর্ককারী হয়। তিনি হলেন সেই মহান সত্ত্বা, যাঁর রয়েছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব। তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি। তাঁর রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই। তিনি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছেন, অতপর তাকে শোধিত করেছেন পরিমিতভাবে।' (সুরা ফুরকান : আয়াত ১-২)
অবিশ্বাসীরা প্রিয় নবি সম্পর্কে অমূলক কথা বার্তা বলে বেড়ায়। তার রেসালাতের দাবির বিপক্ষে যেসব কথা বার্তা বলে বেড়াত, তা ছিল এমন। আল্লাহ বলেন-
'তারা বলে, এ কেমন রসূল যে, খাদ্য আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে? তাঁর কাছে কেন কোন ফেরেশতা নাযিল করা হল না যে, তাঁর সাথে সতর্ককারী হয়ে থাকত? অথবা তিনি ধন-ভান্ডার প্রাপ্ত হলেন না কেন, অথবা তাঁর একটি বাগান হল না কেন, যা থেকে তিনি আহার করতেন? জালেমরা বলে, তোমরা তো একজন জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ।' (সুরা ফুরকান : আয়াত ৭-৮)
আল্লাহ তাদের কথার জবাবে নবি-রাসুল পাঠানোর ব্যাপারে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ আয়াতে বিবরণ বেশ করে ঘোষণা দেন। আল্লাহ বলেন-
'(হে রাসুল!) আপনার আগে যত রাসুল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।' (সুরা ফুরকান : আয়াত ২০)
এ আয়াত পাঠের মাধ্যমেই শেষ হবে ১৫তম রোজার প্রস্তুতিতে আজকের তারাবিহ। তারাবিহ পড়া মুমিন মুসলমানের উচিত তারাবিহ পড়তে যাওয়ার আগে উল্লেখিত সুরাগুলো অনুবাদ ও আলোচ্য বিষয়গুলো অধ্যয়ন করা। অন্তত এ সুরাগুলো তেলাওয়াত করা।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলো বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।
এমএমএস/জেআইএম