আইন-আদালত

রাষ্ট্রপতি ছাড়া কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন: আদালত

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্তাদের দুর্নীতি অনুসন্ধান স্থগিত চেয়ে আবেদনের শুনানিতে চেম্বার জজ আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ছাড়া কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাহলে বাফুফে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বাধা কোথায়?

বাফুফে সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদীর আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে রোববার (২৫ জুন) চেম্বার বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকীর আদালত এ মন্তব্য করেন। আদালতে সালাম মুর্শেদীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মেহেদী হাছান চৌধুরী। দুদকের পক্ষে ছিলেন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান।

শুনানি শেষে আদালত বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ বহাল রাখেন। তবে ফিফার টাকার দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের আদেশে স্থিতাবস্থা দেন আদালত।

আরও পড়ুন: বাফুফের দুর্নীতির অনুসন্ধান ফিফার অংশে তদন্ত চলবে না 

গত বৃহস্পতিবার (২২ জুন) বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ ফুটবল ফেডারেশনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। কাজী সালাউদ্দিন ও সালাম মুর্শেদী এ আবেদন করেন। তবে আজ রোববার সকালে সে আবেদন প্রত্যাহার করেন কাজী সালাউদ্দিন।

বাফুফের শীর্ষ তিন কর্মকর্তাসহ সংস্থাটির অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে গত মে মাসে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৫ মে হাইকোর্ট রুল জারিসহ ফুটবল ফেডারেশনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের আদেশ দেন।

রুলে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ বাফুফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধান করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: জীবনে প্রথম হাইকোর্টে এসেছি, ভেরি স্যাড: কাজী সালাউদ্দিন 

হাইকোর্ট বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে ফিফা ও সরকারের দেওয়া অর্থ নিয়ে দুর্নীতি, অর্থপাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে যুব ও ক্রীড়া সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এবিআর) চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।

চার মাসের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২৭ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

১৫ মে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ওইদিন রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার খুররম শাহ মুরাদ ও অ্যাডভোকেট পিয়া জান্নাতুল। আর দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ। বাফুফে কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন ও ব্যারিস্টার মারগুব কবির।

আরও পড়ুন: বাফুফের সালাউদ্দিন-মুর্শেদী-সোহাগের দুর্নীতি অনুসন্ধানের নির্দেশ 

হাইকোর্টের নির্দেশনা স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত বৃহস্পতিবার (২২ জুন) বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী আবেদনটি (লিভ টু আপিল) করেন।

এর আগে বাফুফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে গত ৩ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। এতে ফল না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।

সায়েদুল হক সুমন জানান, ফিফা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু এটি ফৌজদারি অ্যাক্টিভিটিজ। এজন্য অনুসন্ধান চেয়ে রিট করা হয়েছে।

এর আগে আর্থিক অনিয়ম ও কাগজ জালিয়াতির দায়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা দুই বছরের জন্য সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করে। এছাড়া বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন: সালাউদ্দিন মানসিকভাবে অসুস্থ, চিকিৎসা প্রয়োজন: ব্যারিস্টার সুমন 

সোহাগের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, ফিফার দেওয়া অর্থ বাফুফের খরচ দেখাতে তিনি ভুল ডকুমেন্ট দেখিয়েছেন। ফিফা শুনানি ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই এ শাস্তি দিয়েছে বলে তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

সোহাগের বিরুদ্ধে সাধারণ আর্টিকেল ১৫ (দায়িত্বে অবহেলা), ১৫ (সততা) ও ২৪ (মিথ্যা তথ্য দেওয়া) ভঙ্গের অভিযোগ দেখানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে আবু নাঈম সোহাগকেও। অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বাফুফে ও এএফসিতে। এরপর গত ১৭ এপ্রিল ইমরান হোসেন তুষারকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে সোহাগকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে বাফুফে।

এফএইচ/এমকেআর/জিকেএস