বিনোদন

ছেলের মৃত্যুর ১৮ মাস পর আইরিশ গায়িকা শনেডও বিদায় নিলেন

খ্যাতিমান আইরিশ গায়িকা শনেড ও’কনর আর নেই। তিনি ৫৬ বছর বয়সে ২৭ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিবিসির প্রকাশিত এক খবরে তার মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: অস্কারজয়ী তারকা অ্যালান আর্কিন আর নেই

কিভাবে এ গায়িকার মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। গত বছর জানুয়ারি মাসে মৃত্যু হয় শনেডের ১৭ বছরের ছেলে শেনের। তারপর থেকেই মানসিক কষ্টে ভুগছিলেন গায়িকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেষ পোস্টেও প্রয়াত ছেলের কথাই উল্লেখ করেছিলেন শনেড।

আরও পড়ুন: চলে গলেন পপ গায়িকা কোকো লি

১৯৬৬ সালের ৮ ডিসেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন শনেড ও’কনর। কিশোর বয়স থেকেই গান লেখা ও গান গাওয়ার প্রতি ঝোঁক ছিল তার।

মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয় শনেডের। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত ‘দ্য লায়ন অ্যান্ড দ্য কোবরা’ অ্যালবামের ‘ট্রয়’ গানটি সাড়া জাগিয়েছিল শ্রোতাদের মধ্যে।

১৯৯০ সালে প্রকাশিত অ্যালবাম ‘আই ডু নট ওয়ান্ট হোয়াট আই হ্যাভেন্ট গট’-এর মাধ্যমে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা অর্জন করেন শনেড। বিশেষত শনেডের গলায় আমেরিকান তারকা প্রিন্সের ‘নাথিং কমপেয়ার্স টু ইউ’ গানটির সংস্করণ নজর কেড়েছিল অনুরাগীদের।

গানটির মিউজিক ভিডিও একটি গলাবন্ধ সোয়েটার ও মিলিটারিদের আদলে ছোট ছোট করে কাটা চুলে দেখা গিয়েছিল শনেডকে। তার এই রূপে হাজির হওয়া বেশ পছন্দ করেছিল তার ভক্তরা। পরে বেশিরভাগ সময়েই এ সাজপোশাকেই দেখা যেত শনেডকে।

শনেডের মৃত্যুর কেটে গিয়েছে এক বছর, কেকে-র নতুন গান শুনে আবেগতাড়িত শ্রোতারা গান ছাড়াও বিতর্কে ভরা ছিল শনেডের জীবন। ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’ তথা ‘এসএনএল’ অনুষ্ঠানে পোপের ছবি ছিঁড়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি করেছিলেন গায়িকা।

পরে অবশ্য একটি লাতিন চার্চের ‘প্রিস্ট’ হিসেবে দীক্ষিত হয়েছিলেন তিনি। গান লেখা ও গাওয়ার পাশাপাশি নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ও সেই সংক্রান্ত লড়াই নিয়ে জনসমক্ষে মুখ খুলেছেন শনেড। বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস সিনড্রোমের সঙ্গে তার লড়াই নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন শনেড।

আরও পড়ুন: চার্লি চ্যাপলিনের মেয়ে অভিনেত্রী জোসিফিন আর নেই

এমনকি তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, এই লড়াইয়ের সঙ্গে যুঝতে না পেরে কয়েকবার নিজেকে শেষ করে ফেলার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। ২০২১ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনী ‘রিমেম্বারিংস’-এ নিজের জীবনের এই কঠিন অধ্যায়ের বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন শনেড।

এমএমএফ/জেআইএম