দেশজুড়ে

৬ দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ

কুমিল্লার বরুড়ায় স্কুলমাঠে অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও ভাইরালের ছয়দিনেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের দাবি অস্ত্র প্রদর্শনকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এক মিনিট এক সেকেন্ডের ফুটেজে দেখা যায়, আগ্নেয়াস্ত্র হাতে স্কুল মাঠে মহড়া দিচ্ছে কয়েকজন যুবক। তাদের মধ্যে কমলা ও সাদা রঙের টি-শার্ট, জিন্স প্যান্ট পরা দুই যুবকের হাতে কয়েক ফুট লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র। তারা বারবার সামনে থাকা প্রতিপক্ষের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করছেন। আর হলুদ রঙের টি-শার্ট পর একজন যুবকসহ কয়েকজন তাদের শান্ত করছিলেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, মহড়াটি গত ১২ আগস্টের। জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্থানীয় দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা অস্ত্রের মহড়া দেয়। এদের মধ্যে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দুজন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে।

আরও পড়ুন: ইবিতে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া 

স্থানীয়রা জানান, খোশবাস উত্তর ইউনিয়নের আরিফপুর, আদমপুর, জালালপুর, নারায়ণপুর ও বাঁশতলি এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানে ঝামেলা হলে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পক্ষে অবস্থান নেন। গত ১২ আগস্ট দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে খোশবাস উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ ফটকের পাশে একটি ব্যানার টাঙানো হয়। ওই ব্যানারে নিজেদের ছবি দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান রিয়াজ হোসেন ও ফরহাদ হোসেন। বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে একই ব্যানারে ‘সন্ত্রাসীদের’ ছবি দেখে আরিফপুর গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী খোরশেদ আলমের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। তারা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি হয়।

বিকেলে খোশবাস উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মিলনায়তনে বরুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এ এন এম মইনুল ইসলামের অনুসারী আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা মতবিনিময় সভা করেন। ওই সভা শেষে খোশবাস কলেজ মাঠে ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেনের লোকজন খোরশেদ আলমের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এ সময় খোরশেদ আলমের পক্ষও পাল্টা প্রতিরোধ ও হামলা করে। এ সময় রিয়াজ ও ফরহাদ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে মহড়া দেন।

আরও পড়ুন: শোক দিবসেও এমপি সমর্থকদের অস্ত্রের মহড়া 

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী খোরশেদ আলম বলেন, আমার লোকজন ব্যানার ছিঁড়েছে ঠিকই কিন্তু অস্ত্রধারীদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে ছেলেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছে দেখে এগিয়ে গিয়ে ছিলাম মীমাংসা করার জন্য।

বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বলেন, অস্ত্রধারীরা শনাক্ত হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জাহিদ পাটোয়ারী/আরএইচ/জিকেএস