পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে কোর্স তোলার সিদ্ধান্ত বাতিল করে পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিলে পরবর্তী কর্মসূচির পদক্ষেপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মানববন্ধন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বলেন বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের পক্ষে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নি।
তিনি আরও বলেন, ১৬ জুলাই বাংলা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর প্রথম সেমিস্টারের ‘গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র’ শিরোনামের ৩ ক্রেডিটের একটি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সেসময় আমাদের এক সহপাঠী দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ‘গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র’ কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষার দুই-একদিন আগে পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করেছি। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আমরা বিভাগীয় প্রধানকে মৌখিকভাবে পরীক্ষাটি পেছানোর অনুরোধ জানাই। তখন বিভাগের শিক্ষকরা মিটিং করে আমাদের জানান পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা যাবে না।
মুন্নি আরও বলেন, শিক্ষকরা চাইলেই বিভাগের শিক্ষার্থীর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ওই কোর্সের পরীক্ষাটি পেছাতে পারতেন। কারণ, আমাদের পরবর্তী সেমিস্টার শুরু হওয়ার আগে পর্যাপ্ত সময় বাকি ছিল। আমাদের ওই অসুস্থ সহপাঠীর এ কোর্সের পরীক্ষা আলাদাভাবে নেওয়া হবে বা বিকল্প কোনো পদ্ধতির কথা আমাদের সেসময় জানানো হলে আমরা বাকিরা পরীক্ষায় অংশ নিতাম। আমাদের বলা হয়েছিল, একজন শিক্ষার্থীও যদি ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয়, তাহলে বাকিরা কোর্স থেকে ড্রপ আউট হবে। আমরা সহপাঠীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় কেউই ওই কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেইনি।
তিনি বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উল্লেখিত কোর্সে আমাদের অনুপস্থিত দেখিয়ে পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিচ্ছি না। এরইমধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা সব ক্লাস বর্জন করেছি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচির পদক্ষেপ নেবো।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, তারা আমার কাছে এসেছিল। অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছে সেটা আমি জানতাম না। তাদের বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত। আমি তাদের মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আসতে বলেছি। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো।
নাঈম আহমদ শুভ/এসজে/এএসএম