রাজনীতি

মির্জা ফখরুলকে ঘিরে চলছে গুঞ্জন

দীর্ঘ ছয় বছর পর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির কাউন্সিল। কাউন্সিলের পর থেকেই দলের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের সজাগ দৃষ্টি কখন নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। তবে দলের মহাসচিব নিয়ে চলেছে গুঞ্জন। কাউন্সিলের পর সেই গুঞ্জন আরো জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।সূত্র জানায়, দলের মধ্যে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে ঘিরেই ক্ষণে ক্ষণে চলছে গুঞ্জন। বিশেষ করে কাউন্সিলের সপ্তাহ পার হওয়ার পরও দলের মহাসচিবের নাম ঘোষণা না হওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ রয়েছে বলে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেয়ার পরও অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতার কারণে স্বাধীনতা দিবসে অন্তত মহাসচিবের নাম ঘোষণার যে গুঞ্জন উঠেছিল তা বাস্তবতা রূপ লাভ করেনি। অন্যদিকে, দীর্ঘ চার বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নানাভাবে নির্যাতিত এ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব দেয়া হবে কি না বা বিকল্প কাউকে চিন্তা করা হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে সংগত কারণেই প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না দলটির শীর্ষ নেতারা।এছাড়া সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে মির্জা আলমগীরকে ভারমুক্ত করার জোরালো দাবি না উঠায় অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বেশ কয়েকজন নেতা।দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, “ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) প্রতি আমরা আস্থা রেখেছি। ম্যাডাম যাতে মহাসচিবের দায়িত্ব দেবেন তিনি নির্বাচিত বিবেচিত হবেন।” এদিকে, বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে বলে থাকেন ‘বিএনপিতে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান অপরিহার্য’। এ দুজনের প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ করে নেতাকর্মীরা। ফলে বিএনপিতে এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা এ দুজনেরই। তবে দুজনের মধ্যে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পর্ক নয়, রয়েছে মাতৃত্বের সম্পর্কও। তাই মহাসচিব পদে নাম ঘোষণায় যত বিলম্ব হচ্ছে নেতাকর্মীদের মাঝে ততই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে।ঢাকা মহানগরের এক নেতা জানান, অধিবেশনে কাউন্সিলররা চেয়ারপারসনকে বলেছেন ‘ম্যাডাম, বেঈমানদের চিনতে পেছনে তাকাতে হবে না। আপনার আশে পাশে তাকান, বেঈমান দেখতে পাবেন।’ খালেদা জিয়ার আশেপাশে অর্থাৎ নীতি নির্ধারণী পর্যায় স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যেই বেঈমান রয়েছে বলে বোঝানো হয়েছে।খালেদা জিয়াও বলেছেন, শুধু কেন্দ্রের দোষ দিলে হবে না, তৃণমূলকেও সজাগ থাকতে হবে।বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রত্যাশী এমন এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, “মির্জা ফখরুল ব্যক্তি হিসেবে অনেক ভালো। সংকটকালে দলে তার অবদান রয়েছে। তবে বিএনপির মতো এত বড় একটি রাজনৈতিক দলে মহাসচিবের দায়িত্ব এমন নেতার কাঁধে দিতে হবে যার কমান্ড সব পর্যায়ের নেতারা শুনবেন।” সর্বোপরি মির্জা ফখরুলকেই দায়িত্ব দেয়া হবে নাকি বিকল্প কাউকে খুঁজতে গিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সময়ক্ষেপণ করছেন তার জন্য মহাসচিবের নাম ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান দলের নেতাকর্মীরা।এমএম/আরএস/এমএস