জাতীয়

দ্বিতীয় দফায় ইউপি নির্বাচনেও সহিংসতার আশঙ্কা

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশের নানা জায়গায় সহিংসতা শুরু হয়। প্রথম দফা নির্বাচনের আগে ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত হয় ২৭ জন। আহত হয়েছেন আরো শতাধিক নেতাকর্মী। সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে বার বার অসহায়ত্বে কথা প্রকাশ করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ  আগামী ৩১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত ৭১২টি ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার পাশাপাশি ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, ব্যালেট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ৩৬ জেলায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৩২টিতেই সহিংসতা, অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের দিনেই সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং নির্বাচনের আগে নিহত হয় আরো ১৬ জন। এছাড়া নির্বাচনের আগে ও পরে আহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী।এ বিষয়ে সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “প্রথম দফার সহিংসতা সবাইকে অবাক করেছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণেই সংঘাত ছড়াচ্ছে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন একটি অর্বাচীন সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় দফায় এই সংঘাত কমবে বলে মনে হয় না।” তিনি আরো বলেন, “সংঘাত এড়ানোর জন্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশন যে ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা, তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং সরকার এবং কমিশনই এসব সহিংসতায় ইন্ধন দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সহিংসতা বাড়বে, কমবে না।”বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, “সরকার পরিকল্পিতভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নির্বাচন সহিংসতা ছড়াচ্ছে। আর নির্বাচন কমিশন তাতে সহযোগিতা করছে। তৃণমূলের ক্ষমতা একচেটিয়া দখল করার জন্যই সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকার যে দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তার প্রমাণ ইউনিয়নে। দ্বিতীয় দফাতেও সহিংসতার পূর্ণ আভাস পাচ্ছি।”এদিকে, সহিংসতার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, “নির্বাচনে আর কোনো সহিংসতা সহ্য করা হবে না। কারো বাড়াবাড়িই মানা হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।”এএসএস/আরএস/আরআইপি