কক্সবাজারে অপহরণের পর ধরা পড়ার ভয়ে আশরাফুল ইসলাম রোহান (৬) নামে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন এক নির্মাণ শ্রমিক। রাহিন আহম্মদ (২২) নারে ওই হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় হত্যা মামলার পর বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার রাহিন সিলেটের গোলাপগঞ্জ সন্দিশাইলের জিনারের টিল্লা এলাকার বাহার উদ্দিনের ছেলে। হত্যার শিকার আশরাফুল কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা পাওয়ার হাউজ দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকার রহমত উল্লাহর ছেলে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান,
২৮ অক্টোবর সাড়ে ৫টার দিকে শিশু রোহান বাড়ি থেকে দোকানে নাস্তা কিনতে যায়। তার দাদা জয়নাল আবেদীন তাকে দোকানে দেখে বাড়ি চলে যেতে বলেন। কিন্তু ওইদিন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও রোহান বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ডাইরি করেন।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে নাপাঞ্জাপাড়া বাস টার্মিনাল নারিকেল বাগানের পূর্ব দিকের ড্রেনে অজ্ঞাতনামা এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার খবর আসে। রোহানের বাবা সেখানে গিয়ে মরদেহ তার ছেলে রোহানের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় রোহানের বাবা হত্যা মামলা করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, মামলার পর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম দল নিয়ে বুধবার রাতে অভিযান চালান। স্থানীয়দের বয়ান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন হিসেবে রাত সোয়া ১টার দিকে রাহিন আহম্মদকে দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকা হতে আটক করা হয়। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশু রোহানকে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করেন।
ওসি আরও বলেন, রাহিন জানান- ২৮ অক্টোবর বিকেলে রোহানকে বাড়ি সংলগ্ন দক্ষিণ হাজীপাড়া সড়ক থেকে কৌশলে অপহরণ করেন। তাকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাস টার্মিনালস্থ নারিকেল বাগানে নিয়ে যান। তার সন্দেহ হয় এলাকার লোকজন তার অপহরণ বিষয়ে জেনে গেছে। তাই নিজেকে বাঁচাতে শিশু রোহানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ড্রেনে ফেলে দেন। রাহিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।
সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমএস