আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার সাক্ষী অনুপস্থিত থাকায় বুধবারও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়া অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় বৃহস্পতিবার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেছেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মকবুল আহসান।ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভকেট কিশোর কুমার কর একথা জানিয়েছেন।অ্যাডভকেট কিশোর কর জাগো নিউজকে জানান, হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে সিলেট দ্রুত বিচার আদালতে এসেছিল কিবরিয়া হত্যা মামলাটি। দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ হওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু এ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নিয়মানুযায়ী ১৫ কর্মদিবস করে দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। সেই সময়ও পেরিয়ে যায় গত বছরের ৯ ডিসেম্বর।তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় মামলার কার্যক্রম সিলেট দ্রুত বিচার আদালতে রাখতে গত ৬ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১১ মার্চ থেকে পুনরায় দ্রুত বিচার আদালতে বিচার শুরু হয় আলোচিত এ মামলার। ওই দিন হবিগঞ্জের আলতাব ও আবদুল খালিক নামক দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।এর আগে গত ২, ৩, ৯, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর সাক্ষী ও পর্যাপ্ত আসামি আদালতে হাজির না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। তবে গত ২৬ নভেম্বর হরমুজ আলী ও শমসের মিয়া নামক দুজন আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২৫ নভেম্বর আদালতে পর্যাপ্ত আসামি হাজির না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। গত ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন ২ জন। পর্যাপ্ত আসামি হাজির না থাকায় ১১, ১২ নভেম্বর ও ১৯ নভেম্বর হরতাল থাকায় আদালতে আসামি ও সাক্ষীরা হাজির হতে না পারায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এর পর ৫ নভেম্বর আবদুর রউফ ও এরফান আলী নামক দুইজন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরও আগে গত ৪ নভেম্বর এবং ২৮ ও ২৯ অক্টোবর আদালতে পর্যাপ্ত আসামি উপস্থিত না থাকায় আলোচিত এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।গত ২১ অক্টোবর আদালতে সাক্ষ্য দেন আবদুল মতিন, আবদুল কাইয়ুম ও ঈমান আলী। গত ২১ সেপ্টেম্বর আলোচিত এই মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওইদিন বাদীপক্ষ আদালতে সাক্ষীদের হাজির করতে না পারায় বিচারক ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খানের সাক্ষগ্রহণের মধ্যদিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।অ্যাডভকেট কিশোর কর জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলার ৩২ আসামির মধ্যে ৮ জন জামিনে, ১৪ জন কারাগারে ও ১০ জন পলাতক রয়েছেন।ছামির মাহমুদ/এফএ/আরআইপি