নারী ও শিশু

গাজীপুরে জননীর জন্য পদযাত্রা অনুষ্ঠিত

ক্যান্সার প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্র (সিসিপিআর) এর উদ্যোগে সারাদেশে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জননীর জন্য পদযাত্রা কর্মসূচি বুধবার গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে সকাল ১০টায় পদযাত্রা শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় (সাবেক) গিয়ে শেষ হয়।পদযাত্রায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পদযাত্রায় অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে চিকিৎসকদের জন্য ‘সারভাইকেল ক্যান্সার স্ক্রিনিং’ শীর্ষক একটি সেমিনার সিএমই মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সিসিপিআর নির্বাহী পরিচালক মোসাররত জাহান সৌরভ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও ক্যান্সার এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার, সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খান ও বিএমএ গাজীপুর শাখার সভাপতি ডা. আমীর হোসেন রাহাত। সভাপতিত্ব করেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সুবাস চন্দ্র সাহা। এরপর মেডিকেল কলেজ গ্যালারিতে জরায়ুমুখের ক্যান্সার বিষয়ে একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার, ডা. রিফাত আরা ও মাতুয়াইলের আইসিএমএইচের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম।পুরো কর্মসূচি আয়োজনে সিসিপিআরকে সহযোগিতা করে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিএমএ গাজীপুর শাখা।জননীর জন্য পদযমাত্রা কর্মসূচির সমন্বয়কারী জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এরপরই জরায়ুর মুখের ক্যান্সারের অবস্থান। বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে ১২ হাজার নারী জরায়ুর মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত ও ৬ হাজার মারা যায়।তিনি জানান, এ রোগটি প্রতিরোধযোগ্য। কোষের অভ্যন্তরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন শুরুর পর প্রাণঘাতী ক্যান্সারে পরিণত হতে ২৫ বছর সময় লাগে। নিয়মিত স্ত্রিনিং এর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত হলে অল্প চিকিৎসায় আরোগ্য লাভ সম্ভব। ফলে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।এমইউ/এসএইচএস/আরআইপি