কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী এবং নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি।বুধবার বিকেলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ ও মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল এক যুক্ত বিবৃতিতে এ দাবি করেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়,‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী এবং নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু গত ২০ মার্চ রাতে সেনানিবাসের ভেতরে বাসা থেকে ২০০ গজ দূরে টিউশন শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। রাতেই সেনাবাহিনী সংরক্ষিত এলাকায় অলিপুরের একটি ঝোঁপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়; পাশেই ছিল তার জুতা, ছেঁড়া চুল, ছেঁড়া ওড়না। ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ও কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এ ধরণের পাশবিক হত্যাকাণ্ড অনভিপ্রেত ও অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের ধারণা ছিল যেহেতু সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সুরক্ষিত এলাকায় হত্যাাকাণ্ড ঘটেছে, সেহেতু এই সময়ের মধ্যেই প্রকৃত অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি ঘটনার ৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত খুনিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা যায়নি- যা অত্যন্ত রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, শিক্ষক হিসেবে আমাদেরই সন্তানতুল্য একজন ছাত্রীর প্রতি এমন নির্মমতায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আমরা এ অনাকাঙ্খিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ধর্ষণ ও হত্যা কোনো তুচ্ছ ঘটনা নয়, এটি একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।এর বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে, এর শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে, নতুবা এটি মহামারি আকার ধারণ করবে- যা আমাদের দেশ ও জাতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব বয়ে আনবে। অপরাধী যেই হোক, যতো ক্ষমতাশালীই হোক ও যে সংস্থারই হোক না কেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে খুঁজে বের করে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জোর দাবি জানান তারা।এমএইচ/এসকেডি/এবিএস