বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব ও গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা মুশফিকুর রহমান গুলজার। তার পরিচালিত নতুন ছবি ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ আগামীকাল শুক্রবার, ১ এপ্রিল সারাদেশে মুক্তি পাচ্ছে। এ ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বলছে, চল্লিশটির বেশি হলে মুক্তি পাবে ছবিটি। তবে হল সংখ্যা আরো কিছু বাড়বে এমনটাই আশা প্রকাশ করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্মস। গল্প প্রধান এ ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নায়করাজ রাজ্জাক, চিত্রনায়িকা মৌসুমী, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, পরীমনি, শিরিন শিলা, শামস সুমন, আল মামুনসহ আরো অনেকে।মুক্তির আগেই তারকার বহুল হওয়ায় আলোচনায় এসেছে ছবিটি। তবে সম্প্রতি সমালোচনার মুখেও পড়েছে। এর কারণ, ছবির অভিনেত্রী শিরিন শিলা অভিযোগ তুলেছেন ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ ছবিতে তিনি উপেক্ষিত! কয়েকটি গণমাধ্যমে শিলা মন্তব্য করেছেন ছবির প্রচারণায় তাকে উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া হয়নি। শিলা আরো ক্ষোভ বলেছেন, ছবিতে তিনি পরীমনির জমজ বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পরীমনি ও তার চরিত্রটি সমানে সমান হলেও ছবির পোস্টারে বিশাল আকারে পরীমনিকে রাখা হয়েছে আর শিলাকে দেখাই যায় না!শিরিন শিলার দেয়া এ সংক্রান্ত সাক্ষাতকার বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে গতকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে বেশ সমালোচনা এবং কানাঘুষা চলছে। তবে যেসব গণমাধ্যমে শিলার অভিযোগ কিংবা ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে ছবির নির্মাতা মুশফিকুর রহমান গুলজারের কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিচালক।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের গণমাধ্যমগুলোতে আরো পেশাদারিত্বের প্রয়োগ প্রয়োজন। এক পক্ষের কথায় কোনো কিছুই মানুষের সামনে প্রতিষ্টিত করা ঠিক নয়। যারা শিরিন শিলার কথায় ওসব ছেপেছেন, তাদের উচিত ছিলো আমার সঙ্গে কথা বলা। আমারো নিশ্চয় একটা পক্ষ অবলম্বনের সুযোগ ছিলো।’শিলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘শিরিন শিলা অভিযোগ করেছে তাকে ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ ছবিতে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা একেবারেই ভিত্তিহীন। সে ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে অহেতুক অপপ্রচার চালাচ্ছে।’নির্মাতা গুলজার আরো বলেন, ‘ছবির পোস্টার সাজানো হয় ছবির গল্প এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের চরিত্রের গুরুত্ব পর্যালোচনা করার পর। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে যে ক’জন শিল্পীরা অভিনয় করেছেন তাদের দিয়েই ছবির পোস্টার সাজানো হয়েছে। এখানে কাউকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী অবমূল্যায়ণ করা হয়নি। ছবিতে শিরিন যে চরিত্রে অভনয় করেছে সেটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ছবিটি দেখার পর দর্শকরাই বুঝতে পারবেন শিলা এখানে কেমন চরিত্রে অভিনয় করেছে। সেজন্য তাকে পোস্টারে প্রাধান্য দেয়ার কিছু ছিলো না। আমি মৌসুমী ও পরীমনিকেই প্রাধান্য দিয়েছি। কারণ মৌসুমী দেশের একজন লিজেন্ড অভিনেত্রী। আর পরীর চরিত্রের গুরুত্ব শিলার চেয়ে খানিকটা বেশি।’চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এই মহাসচিব এও বলেন, ‘কিছুদিন আগে শিলার ‘মিয়া বিবি রাজি’ ছবিটি মুক্তির আগে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শিলার কাছে যখন উপস্থাপিকা প্রশ্ন করেন আগামীতে তার অভিনীত কোন ছবি মুক্তি পাবে? তখন শিলা ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ ছবির নাম বলেনি। আমি নিজে সেই অনুষ্ঠান দেখেছি। তাছাড়া আগে এ ছবিটি নিয়ে তার কোনো মাথাব্যাথা ছিল না। তবে এখন সে ছবি মুক্তির আগে কেন এসব ভিত্তিহীন কথাবার্তা প্রচার করছে আমি জানি না।’ গুণী এই নির্মাতা নিজেও কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘শিরিন শিলা আগে নাটকে কাজ করতো। তাকে আমি চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ দিয়েছি। চলচ্চিত্রে এই ছবিতেই শিলা প্রথম কাজ করেছে। ছবির গল্প শোনার পর শিলা ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ ছবিতে সানন্দে কাজ করতে রাজি হয়েছিল। সে ভালো কাজও করেছে। তার ভবিষ্যতও বেশ উজ্জল বলেই মনে করি। কিন্তু নিজের ছবির বিরুদ্ধে যুক্তিহীন প্রচারে সে নিজেরই ক্ষতি করলো। আমার বিশ্বাস, শিলা একটা ভ্রান্ত ধারণার ফাঁদে পড়েছে। সে তার ভুল নিশ্চয় বুঝতে পারবে।’এদিকে ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ ছবিটি প্রসঙ্গে গুলজার বলেন, ‘অনেকদিন পর আমার নির্মিত ছবি মুক্তি পাচ্ছে। আমি বরাবরই গল্প এবং নির্মাণ শৈলিতে নতুনত্ব দিতে চেষ্টা করি। এ ছবিটিও তার ব্যতিক্রম নয়। একইসঙ্গে ছবির গানগুলোও বেশ শ্রুতিমধুর। আশা করি ছবিটি মন্দের বাজারে আশার আলো জাগাবে।’ এনই/এলএ/এমএস