নেত্রকোনার খালিয়াজুরি কলেজ ও কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর ডিগ্রি পাবলিক মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বকেয়া ও কেন্দ্র ফির কথা বলে প্রবেশপত্র দেয়ার সময় এক হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।কলেজ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, রোববার থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় ওই দুইটি কলেজ থেকে ২৫৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরি কলেজের নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ওই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেয়ার জন্য গত পাঁচ দিন ধরে তাদের নিজ নিজ কলেজ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ করে, খালিয়াজুরি কলেজের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র বিতরণে বকেয়া, কেন্দ্র ফি, প্রশ্নপত্র আনার কথা বলে ৮০০ টাকা এবং কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর ডিগ্রি পাবলিক মহাবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে ফি আদায় করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে ওই শিক্ষার্থীদের টাকা আদায় করার পর কোনো রকম রশিদ দেয়া হয়নি। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জাগো নিউজকে জানান, ফরম পূরণের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। এতে কেন্দ্র ফিসহ যাবতীয় পাওনা তারা পরিশোধ করেছে। কিন্তু এখন বিভিন্ন খাতের কথা বলে এই টাকাগুলো নেয়া হচ্ছে। পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এই ভয়ে তারা কোনো প্রতিবাদ করছে না। প্রবেশপত্র সংগ্রহে টাকা আদায় এ বিষয়ে খালিয়াজুরি কলেজের অধ্যক্ষ মণিভূষণ সরকার জাগো নিউজকে জানান, প্রবেশপত্র বাবদ কোনো টাকা আদায় করা হয়নি। এগুলো যাদের আগে বকেয়া ছিল যে যেমন পারছে তাদের কাছ থেকেই আদায় করা হচ্ছে। কোনো চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না। কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর ডিগ্রি পাবলিক মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, পরিবহন খরচ, উত্তরপত্র পাঠানো এবং কেন্দ্র পরিচালনার খরচ বাবদ এসব টাকা নেয়া হচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না, তাদের ছাড় দেয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনোয়ার হোসান আকন্দ জাগো নিউজকে জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ ও খালিয়াজুরি উপজেলা একাডেমিক সুপাইভাইজার সাইফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে টাকা ফেরতসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, প্রবেশপত্র বাবদ অর্থ নেয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য শনিবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনোয়ার হোসান আকন্দকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কামাল হোসাইন/এআরএ/এমএস