অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে হাই কোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।আদালতে এ্যানির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন। অপরদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর এ্যানির বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। রাজধানীর রমনা থানায় (মামলা নম্বর-১৪) দুদকের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।জানা যায়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।তথ্য গোপনের বিষয়ে মামলার এজাহার সূত্রে আরো জানা যায়, জমি ক্রয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ তিন লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকা এবং লক্ষ্মীপুরের কুশখালীতে তার নামে স্কুলে অনুদান বাবদ ১০ লাখ টাকা অর্থাৎ মোট ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তিনি, যা দুদক আইন-২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।অন্যদিকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানা যায়, এ্যানির দেয়া রেকর্ড অনুসারে স্থাবর-অস্থাবর ও অপ্রদর্শিত সম্পদ মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। যার মধ্যে দায় হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। অর্থাৎ দায় বাদ দিলে তার নিট সম্পদের পরিমাণ হয় ৩ কোটি ২৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৭ টাকা। যেখানে ২০১৩ সালের ৩০ জুনে দেয়া সম্পদ বিবরণী অনুসারে তার ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি এ্যানির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এরপর ১২ মার্চ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়ায় চলতি বছরের ২৫ মার্চ সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করে দুদক। এর কিছুদিন পর সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন তিনি।তার দেয়া সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধান কর্মকর্তার মামলার সুপারিশের প্রেক্ষিতে গত ১ অক্টোবর কমিশন মামলার অনুমোদন দেয়।এফএইচ/আরএস/এমএস