শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও কালোজিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। কালোজিরার দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ভাগ্য বদলে গেছে অনেক কৃষকের।শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৬টি উপজেলার ২ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে কালোজিরার চাষ হয়েছে। তার মধ্যে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৩২১ হেক্টর, গোসাইরহাট উপজেলায় ৬১১ হেক্টর, জাজিরা উপজেলায় ৪১০ হেক্টর, নড়িয়া উপজেলায় ২২৩ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৯০ হেক্টর এবং ডামুড্যা উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে কালোজিরার চাষ করা হয়েছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামের কালোজিরা চাষী আল আমিন সরদার বলেন, এ বছর কালোজিরার ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি ভালো দাম পাবো। গত বছর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনেক লোকসান হলেও এ বছর ভালো ফলন হওয়ায় তা পুষিয়ে নিতে পারবো।চরভাগা গ্রামের আরেক কালোজিরা চাষী মো. সবুজ মিয়া বলেন, কালোজিরা চাষে মোটামুটি ভালোই খরচ হয়। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কোন সুযোগ সুবিধাই পাই না। আমাদের অঞ্চলে কোন কৃষি কর্মকর্তা আসে না, আসলে তাদের পরামর্শে আরও ভালো ফলন পাওয়া যেতো।রামভদ্রপুর গ্রামের কালোজিরা চাষী আবুল বাশার বলেন, গত বছর কালোজিরার চাষ করতে গিয়ে অনেক লোকসান হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে কালোজিরার গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি গত বছরের লোকসানটা এ বছর পুষিয়ে নিতে পারবো।জাজিরা উপজেলার পোড়াকান্দি গ্রামের কালোজিরা চাষী আক্কাস হোসেন খলিফা বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও কালোজিরার চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি কালোজিরা বিক্রি করে লাভবান হবো।এ ব্যাপারে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. কবির হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ বছর সরকারিভাবে কালোজিরা চাষে কোন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি, তারপরও জমিতে কৃষাণীরা কালোজিরার চাষ করেছে। কালোজিরার ফলনও ভালো হয়েছে। জেলার কৃষকরা লাভবান হবে। এসএস/পিআর