চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র দীর্ঘ দশ বছর গবেষণার পর নতুন জাতের কুলের উদ্ভাবন করেছে। এর ফলে এখন অসময়েও পাওয়া যাবে মিষ্টি ও সুস্বাদু কুল।আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্বের গবেষকরা জানিয়েছেন, টক ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং রোগবালাই ও পোকামকড়ের সংক্রমণ কম হওয়ায় এ কুল চাষ লাভজনক হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরিফ উদ্দিন জানান, ২০০৬ সালে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কুলের দশটি জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে গবেষণা শুরু হয় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি গুটি নির্বাচিত হয়। ২০১৫ সালে একদল বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে এই জাতটির মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ দশ বছর গবেষণার পর এই নাবী জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। তিনি জানান, সাধারণত যে কুল পাওয়া যায় তা জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় তবে এ জাতের কুলটির সংগ্রহকাল মার্চ মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু হয় এবং চলতে থাকে এপ্রিল মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত। কুলটির দৈঘ্য ৪.৩৫ সে.মি. ও প্রস্থ ৩.৮০ সে.মি. এবং এর গড় ওজন ২৫ গ্রাম এবং মিষ্টতা (টিএসএস)-১৯%। কাঁচা পাকা সব ধরনের কুলই খাওয়ার উপযোগী। টক ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত হওয়ায় সব মানুষের কাছে এই জাতটি পছন্দনীয় হবে। প্রতি হেক্টরে এর ফলন প্রায় ৩৭ টনের মতো। এছাড়া জাতটিতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের সংক্রমণ নেই বললেই চলে।তিনি আরও জানান, অতি শিগগিরই জাতটি বারি কুল-৫ হিসেবে নামকরণ করা হবে এবং পরে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের জন্য চাষীদের এই জাতটির কলম বিতরণ করা হবে। এই জাতটি চাষাবাদ করে চাষিরা উপকৃত হবে এবং অসময়ে পাওয়া যাবে মিষ্টি ও সুস্বাদু কুল।প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৩ সালে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র বারি-১ ও বারি-২, ২০০৪ সালে বারি-৩ এবং ২০১৫ সালে রাঙামাটি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বারি-৪ জাতের কুলের উদ্ভাবন করে।আবদুল্লাহ/এফএ/পিআর