মুক্তিযুদ্ধে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ১৯৭২ সালে তৎকালীন শহীদ সোহরওয়ার্দী হাসপাতালে পাঁচ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রথমে ৫০ শয্যা ও পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ১শ`, ১শ` ৫০ ও ৩শ` শয্যার বার্ন ইউনিট চালু হয়।এবার সেই বঙ্গবন্ধু কন্যাই (শেখ হাসিনা) বুধবার রাজধানীর চানখারপুলে ১ দশমিক ৭৬ একর জমির ওপর ৫শ’ শয্যার হাসপাতালসহ ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি’-এর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করলেন। যার মাধ্যমে দগ্ধ রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে নতুন মাইলফলক স্থাপিত হল। বার্ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবার হাতে পাঁচে শুরু হয়ে মেয়ের হাতে ৫শ’ শয্যার মাইলফলক স্পর্শ হল। বার্ন ইউনিট প্রকল্প সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন জাগো নিউজকে বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় শেখ হাসিনা ঢামেক পরিদর্শনে এসে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার দুরাবস্থা দেখে বার্ন ইউনিট স্থাপনের কথা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ৩শ’ শয্যায় উন্নীত করাসহ দগ্ধ রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অনুদানসহ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছেন। তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে রাজধানীর একটি হোটেলে প্লাস্টিক সার্জনদের এক আন্তজার্তিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে দগ্ধ রোগীদের জন্য আন্তজার্তিক মানের ইনস্টিটিউট স্থাপনের কথা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে সমগ্র প্রক্রিয়া শেষ করে পাঁচ শতাধিক কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করে আজ (বুধবার) ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করলেন। যোগ্য বাবার যোগ্য মেয়ে, যা বলেন তা করে দেখান। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ক্ষমতায় বাইরে থাকার সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়। তখন বিভিন্ন সময় ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শন করতে এসে তিনি দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার দুরাবস্থা দেখে মনে মনে ক্ষমতায় আসলে বার্ন ইউনিটকে আধুনিক চিকিৎসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছিলেন। তাই ক্ষমতায় এসে গত কয়েক বছরে বার্ন ইউনিটের উন্নয়ন করা হয়েছে।রাজধানীর নিমতলীতে রাসায়নিক বিস্ফোরণে আহত ও রাজনৈতিক ধ্বংসাত্মক জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচিতে আহতদের দেখতে এসেও দগ্ধ রোগীদের দুঃখ-কষ্ট দেখে চোখের পানি ফেলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তার নির্দেশেই বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু হয়। ঢামেক বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর প্রায় অর্ধলাখ দগ্ধ রোগী বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিয়েছে। সারাদেশে দেড় সহস্রাধিক বার্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রদান করলেও বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ৫৬ জন। দেশে প্রশিক্ষিত বার্ন বিশেষজ্ঞ তৈরি করে দগ্ধ রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ ইনস্টিটিউট স্থাপিত হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় দগ্ধ রোগীদের ব্যাপারে মায়ের মমতা দেখান। আজ ভিত্তি প্রস্তুর অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ঢামেক বার্ন ইউনিটের সঙ্গে নির্মিতব্য ইনস্টিটিউটের যাতায়াত সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ফ্লাইওভার কিংবা ফুটওভার নির্মাণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগেই ইনস্টিটিউটটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে কিনা সেনা প্রধানের কাছে তা জানতে চান।এমইউ/আরএস/এআরএস/এবিএস