ইট-পাথরে গড়া শহরে এক খণ্ড সবুজ আঙিনা দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। চারদিকে যখন সবুজের জন্য হাহাকার ঠিক তখনই চট্টগ্রাম শহরের খুলশী এলাকায় গড়ে ওঠেছে নাহার এগ্রো গ্রুপের অপরূপ সবুজের আবাহনে ঘেরা প্রধান কার্যালয়।
এ যেন শিল্পির তুলিতে আঁকা অপরূপ ছবি। ইট সিমেন্টের দালানকেও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা যায় তার দেখা মেলে নগরীর ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের খুলশী এলাকায় এই প্রতিষ্ঠানের অফিসে গেলে। এই অফিসের সামনে দিয়ে গেলে মন জুড়িয়ে যাবে আপনারও।
আরও পড়ুন: ভারতের যে ৫ স্থানে বেশি ভিড় করেন পর্যটকরা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবুজায়নের চিন্তাকে প্রাধান্য দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই অফিস ভবন। এর পেছনে কাজ করেছে সবুজের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবেশের প্রতি অকৃত্রিম মায়া।
নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রকিবুর রহমান টুটুল ও তার ছোট ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামসুদ্দোহার পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও কর্মক্ষেত্রে গাছের বৈজ্ঞানিক প্রভাব হতেই এই ধরনের ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা।
ভবনের চারপাশে আইভি লতার গাছ দ্বারা বেষ্টিত করে ভবনের ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে নান্দনিক বাগান। ছাদ বাগানে আছে এরিকা পাম, এলমন্ডা, বাগান বিলাস, রোজ ক্যাকটাস, নয়ন তারা, আইভি লতা, সন্ধ্যামালতি, টরেনিয়া, পুর্তলিকা, টাইম ফুল।
আরও পড়ুন: একদিনেই ঘুরে আসুন ক্যাফে ২৪ পার্ক
আরও আছে বিভিন্ন প্রজাতির লিলি, রুয়েলিয়া, সিলবার স্টার, চায়না স্টার, মোসান্ডা, কাঠ গোলাপ, ওয়াটার লিফ, তুলসি পাতা, ঘাসসহ আরও অনেক ধরনের গাছপালা।
ভবনটি নকশা করার সময় এর চারপাশে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবাহের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সবুজকে প্রাধান্য দিয়ে নির্মিত এই ভবনের সুফলও পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রচণ্ড তাপদাহেও এই অফিস অনেকখানি শীতল থাকে। ভবনটির জানালাগুলোর মাঝেও আছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ছোট ছোট কাঠের জানালাগুলোর চারপাশকে করেছে নয়নাভিরাম। এর ভেতরের পরিবেশ বাইরের পরিবেশের মতই আনন্দদায়ক ও নান্দনিক।
আরও পড়ুন: ঢাকার আশপাশে কোথায় গিয়ে দেখবেন সরিষা ক্ষেত?
ইন্টেরিয়র ডিজাইনের মাধ্যমে প্রতিটি তলাকে গড়ে তোলা হয়েছে পরিপাটি ও সাজানো গুছানো। ঐতিহ্য রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারণার মিশেলে নির্মিত এই ভবনের আধুনিকতাকে উপস্থাপন করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব ঘরানায়।
নাহার এগ্রো গ্রুপের এই অফিস হলো সবুজের চত্বর। সবুজ গাছ মানুষের মনকে করে তোলে সতেজ, প্রফুল্ল ও প্রাণচঞ্চল। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, এ ধরনের পরিবেশে কাজ করে তারা মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছেন। অন্যদের চেয়ে উৎফুল্ল ও সজীব থাকছেন।
তারা বলেন, ‘এই সবুজের অনিন্দ্য সুন্দর উপহারের পেছনে আছে নাহার এগ্রো গ্রুপের মালিক পক্ষের সবুজায়নের প্রতি অকৃত্রিম উৎসাহ ও উদ্দীপনা। রকিবুর রহমান টুটুল তার প্রধান কার্যালয়ের এই সবুজ অবয়ব প্রদান করে দেখিয়েছেন যে তাদের দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে সবুজের প্রভাব কতটা উপকারী।
আরও পড়ুন: মেঘালয় ভ্রমণে কোন কোন স্পট ঘুরে দেখবেন?
‘গ্রিন এনভারমেন্ট’ এর ধারণাকে শুধু কথা ও কাগজে না রেখে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তিনি ও তার পরিবারের সার্বক্ষণিক পরিবেশ সচেতনতা চারপাশের মানুষকে করেছে অভিভূত।
মরহুম বেগম সামসুন নাহার সব সময় তার পরিবারের সদস্যদের পরিবেশকে সঙ্গে নিয়ে সামনে চলার শিক্ষা দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফরিদা আক্তার সব সময় নিজেদেরকে এই সবুজের মাঝে কীভাবে আরও সুন্দর ও নান্দনিকভাবে গড়ে তোলা যায় তার খেয়াল রাখেন।
একটি কর্মব্যস্ত ভবন কিন্তু তার চারপাশে সবুজের ঘনঘটা, যা আজকের ইট-কাঠের শহরের জন্য একটি অন্যতম উদাহরণ। এর পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সবাই একটু থামেন। এক পলক সবুজ ভবনটির দিকে তাকিয়ে সবাই সাধুবাদ জানান।
জেএমএস/এএসএম