ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ২০ হেক্টর জমির কালি বোরো ধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়েই আধা-পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন। কৃষি বিভাগ জানায়, গত কয়েক দিনে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতে ঢল নামায় উপজেলার নদী তীরবর্তী কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট এলাকার প্রায় ২০ হেক্টর জমির কালি বোরো ধান তলিয়ে যায়। অনেকেই ধান কাটা শ্রমিক না পেয়ে কাটতে পারছেন না ডুবে যাওয়া ধান। শ্রমিক খরচ দিয়ে কেউ কেউ আবার অপরিপক্ক ধান কাটলেও তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। ফুলছড়ি উপজেলার পূর্ব কঞ্চিপাড়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল মিয়া জানান, তিনি প্রায় তিন মাস আগে ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী বালাসীঘাটের পূর্ব পাশে তার দুই বিঘা জমিতে কালি বোরো ধান রোপন করেছিলেন। ফলন ভাল হওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু অসময়ে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার আশা পানিতে তলিয়ে গেল। ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলায় ৭০টি চর এলাকা রয়েছে। নদীবেষ্টিত এসব চরাঞ্চলে চলতি বছর প্রায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে কালি বোরো ধানের চাষ করেন কৃষকরা। নদী তীরবর্তী জমিতে শুকনো মৌসুমে পানি শুকানোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কালি বোরো ধান লাগান কৃষকরা। নদীর পানি কমতে থাকায় ধানের চারাগুলো শিকড় গজিয়ে বাড়তে শুরু করে। কিন্তু এসব জমির ফসলের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আগাম বন্যা বা অতিবৃষ্টির ফলে যেকোন মুহূর্তে তলিয়ে যেতে পারে। এবার সেভাবেই ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদের পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক কৃষকের ধান তলিয়ে গেছে।ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহাজুল ইসলাম বলেন,পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের ফলে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ মে. টন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদে হঠাৎ করেই পানি বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা দেশী বোরো ধান হারিয়ে বিপাকে পড়লেন। দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলো এই ধান পেলে উপকৃত হতো। অমিত দাশ/এআরএ/পিআর