ভ্রমণ

ঈদের ছুটিতে একদিনে ঘোরার মতো ৩ স্থান

ঈদের ছুটিতে বেশিরভাগ মানুষই ঢাকার বাইরে চলে যান। এ সময় ঢাকা একেবারেই ফাঁকা হয়ে যায়। আর যারা ঢাকায় থেকে যান, তাদের অনেকেই একদিনের টুরে আশপাশে ঘুরতে যেতে চান। যারা এবারের ঈদে ঢাকার আশপাশের নিরিবিলি স্থানে ঘুরতে যেতে চান, তারা চাইলে যেতে পারেন ৩ স্থানে।

Advertisement

ড্রিম হলিডে পার্ক

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর পাঁচদোনার চৈতাবাতে অবস্থিত ড্রিম হলিডে পার্ক। নরসিংদিতে ২০১১ সালে গড়ে ওঠে পার্কটি। সেখানে ছোট-বড় সবার জন্যই আছে বিভিন্ন রাইড। ঢাকা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই পার্কে।

৬০ একর জমিতে নির্মিত এ পার্কে আছে নাগেট ক্যাসেল, এয়ার বাইসাইকেল, অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি, মায়াবি স্পট, কৃত্রিম অভয়ারণ্য, ডুপ্লেক্স কটেজ।

Advertisement

এছাড়া আছে একাধিক রাইডস, সুবিশাল লেক, হংসরাজ প্যাডেল ও জেট ফাইটার বোট, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশবেষ্টিত নয়নাভিরাম ক্যানেল ইত্যাদি। আছে বিশাল গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা, নিজস্ব কটেজ ও সুপ্রশস্ত বাংলো।

ড্রিম হলিডে পার্কে খাবারেরও ভালো ব্যবস্থা আছে। সেখানে থাই, ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ খাবার পেয়ে যাবেন। আইসক্রিম পার্লার ও কফি হাউসও আছে। নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত জামদানি হাউস থেকে পছন্দের পোশাকও কেনার সুবিধা আছে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা-রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে পার্কটি। তবে সন্ধ্যা ৬টা-৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। ড্রিম হলিডে পার্কের প্রবেশ মূল্য ২০০ টাকা। এই পার্কে মধুরিমা ও মায়াবী নামের দুটি পিকনিক স্পটও আছে।

ড্রিম হলিডে পার্কে কীভাবে যাবেন?

Advertisement

রাজধানী ঢাকার কমলাপুর, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে যাওয়া যায়। ৩০ মিনিট পরপর বাস পাবেন। এছাড়া ঢাকা-সিলেট বিভাগের যে কোনো বাসে উঠলেই এ পার্কে পৌঁছানো যাবে। কিংবা কাঁচপুর অথবা টঙ্গী থেকে কালীগঞ্জ, ঘোড়াশাল হয়েও যাওয়া যাবে অনায়াসে। এক থেকে সর্বোচ্চ দেড় ঘণ্টার যাত্রাপথ।

আরও পড়ুন

ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন বাঁশ-কাঠের তৈরি রিসোর্টে সীতাকুণ্ড ভ্রমণে একদিনেই যা যা ঘুরে দেখবেন

শালবন বৌদ্ধবিহার

কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বৌদ্ধ বিহার অন্যতম প্রধান। এটি বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি প্রত্নস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটি একটি।

এ বিহারটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো হলেও আকারে ছোট ও চৌকো। শালবন বিহারের প্রতিটি বাহু ১৬৭.৭ মিটার দীর্ঘ। বিহারের চার দিকের দেয়াল পাঁচ মিটার পুরু। কক্ষগুলো বিহারের চার দিকের বেষ্টনী দেয়াল পিঠ করে নির্মিত।

বিহারে ঢোকা বা বের হওয়ার মাত্র একটাই পথ ছিল। এ পথ বা দরজাটি উত্তর ব্লকের ঠিক মাঝামাঝি স্খানে রয়েছে। প্রতিটি কক্ষের মাঝে ১.৫ মিটার চওড়া দেয়াল রয়েছে। বিহার অঙ্গনের ঠিক মাঝে ছিল কেন্দ্রীয় মন্দির।

বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। কক্ষের সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া টানা বারান্দা ও তার শেষ প্রান্তে অনুচ্চ দেয়াল। প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে ৩টি করে কুলুঙ্গি আছে। এই কক্ষগুলোতে ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন। সেখানে তারা বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ৮টি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। এগুলো বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।

কীভাবে যাবেন শালবন বিহারে?

যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে যেতে হবে কুমিল্লা। সেখানকার টমছমব্রিজ চৌমুহনী হতে পশ্চিম দিকের রাস্তায় দাঁড়ানো সিএনজি যোগে কোটবাড়ি যেতে পারবেন। ভাড়া পড়বে ২০ টাকা। দৌলতপুর হয়ে যাবে। সিএনজি থেকে নেমে অটোতে করে শালবন বিহাড় জনপ্রতি ভাড়া ১০-২০ টাকা।

দিয়াবাড়ি

ঢাকার উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত একটি সুপরিচিত স্থান হলেঅ দিয়াবাড়ি। ঢাকার মধ্যেই ঘোরার জন্য জনপ্রিয় ও নিরিবিলি এক স্থান এটি। বিশাল বটগাছ দিয়াবাড়ির সৌন্দর্যে যোগ করেছে এক ভিন্নমাত্রা। স্থানটি এখন দিয়াবাড়ি বটতলা নামেও পরিচিত।

সবুজে মোড়া দিয়াবাড়ির পাশেই তুরাগ নদী হতে সৃষ্টি হাওয়া একটি শাখা নদী। বর্তমানে মৃত এই শাখা নদীকে সংস্কার করে লেকের রূপ দেয়া হয়েছে। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য লেকের পাড় বাধিয়ে একটি নান্দনিক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

চাইলে লেকের জলে নৌকায় ভেসে, প্রাণবন্ত আড্ডা-গানে মুখর হয়ে কিংবা জেলেদের মাছ ধরার ব্যস্ততা দেখে সময় কাটাতে পারেন।

কীভাবে যাবেন দিয়াবাড়ি?

দিয়াবাড়ি যেতে চাইলে ঢাকার যে কোনো প্রান্ত হতে উত্তরা রুটে চলাচলকারী বাসে হাউজ বিল্ডিং চলে আসুন। হাউজ বিল্ডিংয়ের অবস্থিত নর্থ টাওয়ার বা মাসকট প্লাজার সামনে দিয়াবাড়ি যাওয়ার রিকশা ও লেগুনা পাওয়া যায়। লেগুনায় দিয়ে সরাসরি দিয়াবাড়ি বটতলায় যেতে পারবেন।

জেএমএস/এএসএম