বুকে নৌকা মার্কার প্রার্থীর স্টিকার, হাতে সিল আর টেবিলে ব্যালট পেপার ও বাক্স এবং চেয়ারে বসে প্রকাশ্যেই সিল মেরে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে আলোচিত হয়েছিলেন কুমিল্লার বুড়িচংয়ের বহুল আলোচিত সেই ‘ভোট ডাকাত’ খ্যাত মনিরুল ইসলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার অপকর্মের ছবি প্রকাশের পর গ্রেফতারের নির্দেশ আসে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে। অবশেষে বুধবার দুপুরে বুড়িচং থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর এখন তার ঠাঁই হয়েছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে। পুলিশ জানায়, গত ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সময় উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের আবিদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রেভোট গ্রহণ চলাকালে সকাল থেকেই কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলুল হক মুন্সী ও বিদ্রোহী প্রার্থী সাহেব আলীর (আনারস) সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে কেন্দ্র অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রকাশ্যেই নৌকায় সিল মারা শুরু করে। এসময় একটি বুথে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ কর্মী মনিরুল ইসলাম বুকে নৌকার স্টিকার ঝুলিয়ে চেয়ার-টেবিল নিয়ে নৌকায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে নেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র খবর প্রকাশের পর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ আসায় পুলিশ তাকে গ্রেফতারে তৎপর হয়ে উঠে। এ ঘটনায় ভোটের পর দিন বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেন কেন্দ্রের প্রিজাডিং অফিসার ও বুড়িচং উপজেলার সোনার বাংলা কলেজের প্রভাষক আনোয়ার হোসেন। এদিকে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আসাদুজ্জমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মনিরুলকে তার গ্রামের বাড়ি আবিদপুর থেকে গ্রেফতার করে। মনির ওই গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে। বুড়িচং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার বড়ুয়া জানান, বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ছবির সঙ্গে মনিরুল ইসলামের মিল রয়েছে। তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।কামাল উদ্দিন/এআরএ/আরআইপি