বিশেষ প্রতিবেদন

এতিমখানায় থেকে রাকিব পেয়েছে জিপিএ-৫

অদম্য মেধাবী রাকিব হোসেনের পৃথিবীতে বাবা মা বলতে কেউ নেই। একমাত্র এতিমখানাই তার ঠিকানা। এতিম শিশুরাই তার আপনজন। জানা গেছে, ছয় বছর বয়সে বাবা-মাকে হারিয়ে এতিমখানাই তার বেড়ে উঠা। বাবা মায়ের স্নেহ, আদর, ভালবাসা সে পায়নি। রাকিবের বাবা মায়ের মৃত্যুর পর ওই গ্রামে ঠাঁই হয়নি তার। ওই এলাকার লোকজন তাকে হাতীবান্ধা উপজেলা শাহ গরিবুল্লাহ শিশু সদন এতিম খানায় ভর্তি করিয়ে দেন।এতিম খানার পরিচালকের সহযোগিতায় সে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকে ভর্তি হন। অনেক কষ্টে পড়াশুনা করে এ বছর হাতীবান্ধা এসএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে অবাক করেছে। তার সাফল্যে এতিমখানার সবাই খুশি।রাকিবের বাবা মৃত রফিকুল ইসলাম ও মা মৃত জাহানারা বেগম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামে থাকতেন। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট সে। বোনদের বিয়ে হয়ে গেলেও কোনো দিন ছোট ভাইয়ের খোঁজ নেয়নি।এক সময় সবেই ছিল তাদের। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে রাকিব বাবা মাকে হারিয়ে এখন নিঃস্ব। তারপরও এতিমখানার শিক্ষকদের সহযোগিতায় জীবনে প্রথম সফলতা এনেছে। সে তার এই সাফল্য ধরে রাখতে চায়।রাকিবের স্বপ্ন আইনজীবী হওয়ার কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে কে এগিয়ে আসবে এমন শংঙ্কা কাটছে না তার।হাতীবান্ধা শিশু সদন এতিমখানায় শিক্ষক আব্দুল গণি জানান, রাকিব হোসেন অদম্য মেধাবী। তার বাবা-মা না থাকায় দারিদ্রতার শেষ নেই। অনেক কষ্টে বড় হয়েছে। কথাগুলো বলতে বলতে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি তিনি। তিনি সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতার আবেদন করেন। এসএস/এমএস