দেশজুড়ে

খুলনা বিভাগে পরিবহন ধর্মঘটে বেনাপোলে পণ্য জট

রোববার ভোর ৬টা থেকে খুলনা বিভাগে ৪৮ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমিটির তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষে এ ধর্মঘট চলছে।এ কারণে বন্দর থেকে কোনো পণ্য পরিবহন করতে পারছে না বন্দর ব্যবহারকারী সিএন্ডএফ এজেন্টরা। শত শত পণ্য চালানের সরকারি শুল্ক পরিশোধ করার পরও বন্দর থেকে খালাস নিতে পারছেন না তারা। এর ফলে বন্দরে ভয়াবহ পণ্য জট দেখা দিয়েছে। বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য রাখার জায়গা না থাকায় ভারত থেকে নিয়ে আসা আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে কয়েকশ ট্রাক বন্দর ও বন্দরের আশেপাশের সড়কে দাঁড়িয়ে আছে দিনের পর দিন। প্রতিদিন ভারত থেকে তিনশ থেকে সাড় চারশ ট্রাক পণ্য বেনাপোল বন্দরে আসে। দেড়শ থেকে দুইশ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানিও হয়। পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন সোমবারও দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। এতে করে মাছ, পেঁয়াজ, পানপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের দুই শতাধিক ট্রাকে প্রায় একশ কোটি টাকার কাঁচা পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তীব্র গরমের মধ্যে এসব পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উৎপাদন সামগ্রী ও সাধারণ পণ্যের আরো পাঁচ শতাধিক ট্রাক আটকা পড়েছে। সেখানেও বড় ধরনের লোকসানে পড়বে ব্যবসায়ীরা।এদিকে, ধর্মঘটে বেনাপোল থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আটকা পড়েছেন ভারত থেকে আসা কয়েকশ পাসপোর্টযাত্রী। গন্তব্যে ফিরতে না পেরে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বাস কাউন্টারে তারা অপেক্ষা করছেন। পরিবহন কর্তৃপক্ষ বলছেন, সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাস ছাড়তে পারছেন না। এতে তাদের কিছু করার নেই।পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমিটির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম বক্স দুদু জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত খুলনা বিভাগে বাস, ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি, কাভার্ডভ্যানসহ সব ধরনের পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, চলমান ধর্মঘটের মধ্যে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।উল্লেখ্য, তিন দফা দাবিতে এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমিটি। দাবিগুলো হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার কাজ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শেষ করতে হবে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ওই মামলায় ৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। মামলা বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। এছাড়াও গ্রিন লাইন পরিবহনের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করতে হবে।জামাল হোসেন/এমএএস/এবিএস