টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে রাজধানী আইডিয়াল ল’ কলেজের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় তিন আসামিকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
তাদের মধ্যে দুজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন- বাসটির হেলপার শামীম ও জাহাঙ্গীর। একই সঙ্গে তাদের এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে হাইকোর্ট। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বাসের চালক হাবিবকে। তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। হেলপার আকরাম জেলখানায় মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তি করে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. তৌফিক ইনামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম মাসুদ রানা, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মীর মনিরুজ্জামান, আয়েশা আক্তার ও তারেক রহমান। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মো. আহসান উল্লাহ ও মো. দেলোয়ার হোসেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম মাসুদ রানা জানান, রূপা হত্যার ঘটনাটি বহুল আলোচিত। নথিপত্র দেখে বলতে পারি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডই প্রাপ্ত ছিল। অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর নভেম্বরে মামলাটি শুনানির জন্য আসে। গত ২৩ জানুয়ারি শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। রোববার (২৬ জানুয়ারি) রায় ঘোষণা শুরু করে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রায় পড়া শেষ হয়।
রায়ে হাইকোর্ট এ ঘটনায় জব্দকৃত বাসটি মালিকের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাস মালিকের আবেদন নিষ্পত্তি করে আদালত এ আদেশ দেন। ১৫ দিনের মধ্যে মধুপুর থানার ওসিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ছোঁয়া পরিবহনের বাসে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন রূপা। এসময় তাকে চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে আসামিরা। পরে মরদেহ মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে গ্রেফতার বাসটির হেলপার শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পরে চার্জশিট দায়েরের পর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়। টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সুপারভাইজার সফর আলীকে সাত বছর এবং বাকি চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের তৎকালীন অতিরিক্ত এক নম্বর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া। পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন।
এফএইচ/এমকেআর/এমএস