মানিকগঞ্জে বেড়েছে সরিষার আবাদ
সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছি, ছবি: মো. সজল আলী
মানিকগঞ্জ জেলার সাত উপজেলার মাঠজুড়ে এখন হলুদের আভা। যতদূর চোখ যায়, কেবল হলুদ আর হলুদ। যেন মাঠজুড়ে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে হলুদ রঙের গালিচা। রঙ আর সুবাসে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ নান্দনিকতায়। সেই সঙ্গে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সরিষা ক্ষেতগুলো। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন কৃষকরা।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর জেলার সাতটি উপজেলায় ৬৩ হাজার ২ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৫৩০ হেক্টরে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণের ফলে সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের ফসল হওয়ায় সরিষা এখন কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে ঝুঁকি কম এবং বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। এ কারণে তারা সরিষা চাষে বেশি ঝুঁকছেন।
আরও পড়ুন:
- মাগুরায় আগাম পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
- মাগুরায় বরই চাষে শিক্ষকের সফলতা
- শার্শায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সরিষা চাষ
সদর উপজেলার নবগ্রাম এলাকার কৃষক আব্দুল আলীম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বছর ৬৬ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। গত বছরের তুলনায় জমির পরিমাণ বেড়েছে এবং আবাদও ভালো হয়েছে। গত বছর ২২ শতক জমিতে সরিষা চাষ করে যে লাভ হয়েছিল, এবার ফলন ভালো হলে তার কয়েকগুণ লাভ হতে পারে।’

সরুপাই গ্রামের কৃষক হাজী কামাল শেখ জাগো নিউজকে বলেন, মাঘ মাসের শীতের ওপর ফসলের ফলন কিছুটা নির্ভর করে। অতিরিক্ত শীত ও তাপমাত্রা কমে গেলে সরিষার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। ক্ষেতজুড়ে হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে। আশা করছি, সরিষা বিক্রি করে বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারব। তবে কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড শীত পড়ছে। এই সময় কুয়াশা সরিষা ক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি করতে পারে।
হেলাচিয়া গ্রামের কৃষক শাকিল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। সরিষায় সময় কম লাগে এবং তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে খরচও কম। আশা করছি ফলন ভালো হবে এবং কিছুটা লাভ করতে পারব।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের কারণে এ বছর মানিকগঞ্জে সরিষার আবাদ বেড়েছে। আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছি। আশা করছি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে যে শীত ও কুয়াশা রয়েছে, এতে সরিষার কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা নেই।’
মো. সজল আলী/জেএস/