কুড়িগ্রামে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা
পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু হয়েছে, ছবি: জাগো নিউজ
কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু হয়েছে। যা স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ধান ও আলু চাষনির্ভর এ জেলায় বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা।
জেলার রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাটমাধাই গ্রামের কৃষক রাসেল আহমেদ এ চাষাবাদ শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ফসল চাষ করেও কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়ায় বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে থাকেন। সেই চিন্তা থেকেই চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো পলিক্রস জাতের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু করেন।
জানা গেছে, রাসেল আহমেদ গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৬০ শতক জমিতে পলিক্রস জাতের পেঁয়াজ রোপণ করেন। বর্তমানে তার ক্ষেতের গাছগুলো সুস্থ ও সবল রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মাসে বীজ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
পেঁয়াজের এ বীজ বাগানকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে স্থানীয় নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা সেখানে কাজ করছেন। তারা দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাচ্ছেন।

কৃষক রাসেল আহমেদ বলেন, ‘ব্যতিক্রমী চিন্তা থেকে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু করেছি। ফলন ভালো হলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা আছে। এখন গাছের অবস্থা দেখে আশাবাদী। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে এবারই প্রথম পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতদিন জেলার কৃষকদের বাইরে থেকে, বিশেষ করে ফরিদপুর অঞ্চল থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হতো। স্থানীয়ভাবে বীজ উৎপাদন শুরু হলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষকের লাভ বাড়বে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পেঁয়াজ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কুড়িগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া এ ফসলের জন্য উপযোগী। আগ্রহী কৃষকদের কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
রোকনুজ্জামান মানু/এসইউ