ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. কৃষি ও প্রকৃতি

অন্যের বাগানে বরই কিনতে গিয়ে নিজেই উদ্যোক্তা

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ১২:৩১ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

অন্যের বাগানে বরই কিনতে গিয়ে অনুপ্রাণিত হন পটুয়াখালীর এক গৃহবধূ। তার চোখে দেখা স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। উদ্যোগ, পরিশ্রম আর সঠিক পরিচর্যায় বরই চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া গ্রামের তাসলিমা বেগম।

জানা যায়, তিন বছর আগে পাশের পেয়ারপুর গ্রামে বরই বাগান থেকে ফল কিনতে গিয়ে সৌন্দর্য ও ফলন দেখে মুগ্ধ হন তাসলিমা বেগম। পরে স্বামীকে নিয়ে সেই বাগান ঘুরে দেখেন। নিজেও বরই চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এরপর বাড়ির সামনের নদীর পাড়ে পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাই নিজের ২০ শতাংশ পতিত জমির ওপর বাগান করেন।

যশোর থেকে থাই আপেল কুল, কাশ্মীরি আপেল কুল, বলসুন্দরীসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ২০০টি বরইয়ের কলম সংগ্রহ করে রোপণ করেন তাসলিমা। সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত যত্নে মাত্র এক বছরের মধ্যেই তার বাগান ফলন দিতে শুরু করে। প্রথম বছরে খরচ উঠতে কিছুটা সময় লাগলেও দ্বিতীয় বছর থেকেই লাভের মুখ দেখেন এই নারী উদ্যোক্তা। চলতি তৃতীয় মৌসুমে বাগানের সব ফল বিক্রি হলেই পুরো টাকাটা লাভের অংশ থাকবে বলে আশা করছেন।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ধান ও মুগ ডালের জন্য খ্যাত পটুয়াখালী জেলা। তবে ধানের পাশাপাশি এ উপজেলায় তরমুজ, বরই, মুগ ডালসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গত অর্থবছরে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বরই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৬ হেক্টর জমিতে। চলতি অর্থবছরে তা ৪ হেক্টর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হেক্টরে। প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ১১ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টনেরও বেশি বরই উৎপাদন হয়েছে। ফলে পুরো উপজেলায় মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫৩ মেট্রিক টন।

jagonews

সরেজমিনে জানা যায়, সারিবদ্ধ মাঝারি আকৃতির গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু বরই। রাস্তার পাশে হওয়ায় পথচারীদের নজর কাড়ে বাগানটি। ফল রক্ষায় চারপাশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। যাতে পাখিসহ কোনো প্রাণী ক্ষতি করতে না পারে।

আরও পড়ুন
শখের ছাদ বাগানে মিটছে পরিবারের চাহিদা 
মিরসরাইয়ে অসময়ে তরমুজ চাষে সফল কৃষকেরা 

তাসলিমা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘প্রথমে এক বিঘার সমপরিমাণ চারা এনে রোপণ করি। সার, ওষুধ ও পরিচর্যার মাধ্যমে কয়েক মাসেই গাছগুলো বড় হয়ে যায়। প্রথম বছরে লাভ কম হলেও দ্বিতীয় বছরে প্রায় এক লাখ টাকার মতো লাভ হয়েছিল। আশা করছি এ বছর প্রায় দেড় লাখ টাকার বরই বিক্রি হবে। এ মৌসুমে খরচ হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা, বাকিটা সবই লাভ হবে।’

তিনি বলেন, ‘বরই চাষে প্রথম বছর একটু খরচ বেশি হলেও পরে তেমন খরচ নেই। একবার চারা লাগানোর পর নতুন করে আর লাগাতে হয় না। এক গাছ থেকেই বারবার ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি বরই ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি ফল পাওয়ার আশা করছি।’

তাসলিমা বেগমের স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন এবং ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী। আগে তিনিও কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাস করতেন। বর্তমানে গ্রামে থেকেই বাগান দেখাশোনা করছেন। তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আশপাশের অনেকেই এখন বরই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

jagonews

প্রতিবেশী নাসরিন বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুই বছর আগে যখন গাছগুলো লাগানো হয়, তখন থেকেই দেখছি তিনি খুব যত্ন করেন। তার বাগানের বরই খুবই মিষ্টি। আমরা নিজের চোখে বাগান দেখে তারপর ফল কিনি। এখন তার দেখাদেখি আমাদের এলাকায় অনেকেই বরই চাষ শুরু করেছেন।’

পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছর উপজেলায় ৩৬ হেক্টর জমিতে বড়ই চাষ হলেও এ বছর তা বেড়ে ৪০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। আপেল কুল, বাউকুল, বলসুন্দরীসহ নানা উন্নত জাতের বরই চাষ হচ্ছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে বরই চাষকে আরও সম্প্রসারণে আমরা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’

মাহমুদ হাসান রায়হান/এসইউ

আরও পড়ুন