জাবি শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশের প্রতিবাদ
অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ ও আরেক ছাত্রের সনদ আটকে রাখার সুপারিশ করায় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।
ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর হল থেকে ও আরমানুল ইসলামের বিভাগ থেকে মৌনমিছিল ও মানববন্ধন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে দেখা করে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে হলের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করে। অপরদিকে ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার মৌনমিছিল ও মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশের পাদদেশে মানববন্ধন শেষে মৌনমিছিল করেন তারা।
আ ফ ম কামালউদ্দিন হল থেকে উভয় পক্ষের অভিযোগপত্র সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের সঙ্গে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের শিক্ষার্থীদের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড কর্তৃক শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। আমরা মনে করি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড শাস্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যা ন্যায়বিচারের পথকে সংকীর্ণ করেছে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদপত্র ও অনলাইন সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহেণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে যা ন্যায়বিচারের অন্তরায়।
এ সময় ভিসি অধ্যাপক ড. ফারাজানা ইসলাম শিক্ষার্থীদের বলেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি সিন্ডিকেটে পাস হলে তা কার্যকর হবে। তার আগে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় খাবার দোকান সংলগ্ন রাস্তায় নিজের গাড়ি রেখে খাবার খেতে যান ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান। সংস্কার কাজ চলা সেই রাস্তার সংকীর্ণ জায়গার উপরেই গাড়িটি রাখায় পথচারী ও অন্যান্য গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথমে সেখানকার দায়িত্বরত গার্ড গাড়িটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বললে নাহরিন ইসলাম খান শিক্ষক পরিচয় দিয়ে গাড়ি সরাতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আইন ও বিচার বিচার বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আরমানুল ইসলাম খানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষককে গাড়ি সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানান।
কিন্তু নাহরিন ইসলাম গাড়ি না সরিয়ে আরমানের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে যান। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক আরমানকে মারতে উদ্যত হন এবং অপর শিক্ষার্থীদেরকে ‘দেখে নেয়ার’ হুমকি দেন।
উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নাহরিন ইসলাম খানকে তিনি কোন বিভাগের শিক্ষক তা জানতে চাইলে তিনি পরিচয় না দিয়ে কেবল বলেন, আমি শিক্ষক, ১৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করি। কোন বিভাগের শিক্ষক তা আমি দেখাচ্ছি। পরে সহকারী প্রক্টর মেহেদী ইকবাল, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন ও শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত ওই শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
এ ঘটনার জেরে ওইদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর ওই দুই শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে নাহরিন ইসলাম মৌখিক লাঞ্ছনার অভিযোগ দেন।
পরে আরমানুল ইসলাম খান প্রক্টরের বরাবরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগে অশোভন আচরণ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও হুমকির বিচার চেয়ে আবেদন করেন।
হাফিজুর রহমান/এএম/আইআই
সর্বশেষ - ক্যাম্পাস
- ১ স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন
- ২ ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
- ৩ ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে: সাদিক কায়েম
- ৪ বিএনপিকে সুবিধা দিতে ছলচাতুরির পথ বেছে নিচ্ছে ইসি
- ৫ তিন শিক্ষার্থীর রিটে স্থগিত শাকসু নির্বাচন, উত্তাল ক্যাম্পাস