ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ

একা পেয়ে দুই মিনিটেই ইবি শিক্ষিকাকে খুন করে ঘাতক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ঘটনার আগের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার আগে একে একে বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভাগ ত্যাগ করায় ওই সময় পুরো অফিস ব্লকে একা হয়ে পড়েন শিক্ষিকা রুনা। সেই সুযোগে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

গত ৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানের ছুরিকাঘাতে নিজ কক্ষেই নিহত হন আসমা সাদিয়া রুনা। ঘটনার দিন বিভাগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন থাকলেও হত্যার সময় সেখানে অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।

জানা যায়, সমাজকল্যাণ বিভাগে বর্তমানে সভাপতি রুনার পাশাপাশি শিক্ষক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক, সেমিনার লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হক, কম্পিউটার অপারেটর সোহাগ এবং নৈশপ্রহরী সুমন কর্মরত। তবে হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে দাপ্তরিক কাজে অদক্ষতার অভিযোগে সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎকে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে বদলি করা হয়। আর অসদাচরণের অভিযোগে প্রায় এক মাস আগে অভিযুক্ত ফজলুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়েছিল।

ভবনের নিচে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভাগ ত্যাগ করেন। পরে বিকেল ৩টা ৪১ মিনিটে সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক, সেমিনার লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হক ও কর্মচারী সোহাগ বিপরীত পাশের গেট দিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে যান। যাওয়ার সময় তারা বিভাগের দায়িত্বরত নৈশপ্রহরী সুমনের কাছে দিয়ে যান বলে জানান তারা।

তবে ঘটনার মাত্র তিন মিনিট আগে বিকেল ৪টা ৯ মিনিটে সুমনও একই গেট দিয়ে ভবন ত্যাগ করেন। একই সময়ে ভবনের সামনের গেট দিয়ে আরেক কর্মচারীকে ভবনে ঢুকে দ্বিতীয় তলার ঘটনাস্থলের সামনে দিয়ে তৃতীয় তলার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে উঠতে দেখা যায়।

এর আগে বিকেল ৪টা ১ মিনিটে ফজলুর রহমানকে তৃতীয় তলার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কিচেন রুমে পকেটে পলিথিনে মোড়ানো একটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ নিয়ে কিছুক্ষণ পায়চারি ও লুকোচুরি করতে দেখা যায় বলেও ফুটেজে ধরা পড়ে। পরে সেটি নিয়ে বের হয়ে যান তিনি। বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে তিনি তৃতীয় তলা থেকে নেমে দ্বিতীয় তলায় শিক্ষিকা রুনার কক্ষের দিকে যান ও কয়েক মিনিট পর আবার ফিরে আসেন। এরপর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ফজলুর আবার সিঁড়ি দিয়ে নেমে দ্বিতীয় তলায় রুনার কক্ষে প্রবেশ করেন। মাত্র দুই মিনিট পর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে রুনার ‘আল্লাহ বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যায়।

jagonews24

চিৎকার শুনে ভবনের নিচে থাকা দুই আনসার সদস্য ও দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা কক্ষের দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান এবং দরজার ওপর ফুটা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শিক্ষিকা রুনাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ইফতারের আয়োজনস্থলে থাকা তিন শিক্ষার্থী আসলে সবাই মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

সেখানে ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় ছুরি চালানো অবস্থায় দেখা যায়। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দাবি, গণপিটুনি থেকে বাঁচতে তিনি আত্মহত্যার নাটক করার চেষ্টা করেছিলেন।

এদিকে বিভাগের শিক্ষক শ্যাম সুন্দর সরকারও ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিভাগ ত্যাগ করেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সেদিন বিভাগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সবার একসঙ্গে বিভাগ ত্যাগের বিষয়টি তাদের কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক বলেন, আমি ম্যামের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে ক্যাম্পাসসংলগ্ন শেখপাড়া বাজারে ফল কিনতে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে ফজলুল ও সোহাগ ছিল। যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরী সুমনের কাছে বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে যাই।

অন্যদিকে নৈশপ্রহরী সুমন বলেন, নিজের বাসায় জরুরি কাজ থাকায় ম্যামের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে ঠিক ৪টায় বিভাগ ছেড়ে চলে যাই।

তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে বিকেল ৪টা ৮ মিনিটেও ভবনে দেখা যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরে তিনি সেখানে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দাবি, তখনও ফজলুর রহমান দ্বিতীয় তলায় গেলেও তার সঙ্গে দেখা হয়নি।

ইরফান উল্লাহ/এমএন/এমএস