পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ : উদ্বেগজনক হারে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয় ৯০ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে স্নাতক পাস করে মাত্র ২০ জন। আবার ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ৯০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে পাস করে মাত্র ২৮ জন।
প্রতি বছরই এমন উদ্বেগজনকভাবে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ায় মুখস্থ নির্ভর পড়াশোনাকে দায়ী করছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা বলছেন, এসএসসি ও এইচএসসিতে মুখস্থ নির্ভর পড়াশোনা করে ভালো ফল করলেও বিজ্ঞানের বিষয়ে পড়তে যে শক্তি ভিত প্রয়োজন তা তাদের গড়ে উঠছে না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত সাজেশনে প্রশ্ন মুখস্থ করে ভালো ফল করে। আবার সংক্ষিপ্ত পড়াশোনায় বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হচ্ছে।
কিন্তু তাদের ভিত্তিটা শক্তিশালী হচ্ছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সিলেবাসের সঙ্গে কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারছে না। সবকিছুই মুখস্থ করতে গিয়ে উল্টাপাল্টা করে ফেলছে। এই অবস্থার সংস্কার না হলে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।’
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে ৯০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। কিন্তু নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে স্নাতক পাস করে মাত্র ২০ জন। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় ৯০ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে পাস করে মাত্র ২৮ জন। একই বিভাগে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ৯০ জন ভর্তি হয়ে অনার্স পাস করেছে ৪৪ জন। বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ৯০ জন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতক পাস করে মাত্র ৩৮ জন।
বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ৯০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করে মাত্র ৫৫ জন।
এদিকে, এভাবে প্রতি বছর ব্যাপকহারে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ায় এবং ফেল করে একই বর্ষে একাধিকবার থাকার কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ৪০তম বার্ষিক প্রতিবেদনে রাবির শিক্ষার্থী প্রতি বার্ষিক ব্যয় দেখানো হয় ৪৩ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে ২০১৫ সালে শিক্ষার্থী প্রতি ব্যয় হয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। ফলে একজন শিক্ষার্থী এক বছর ফেল করলে রাষ্ট্রকে ওই পরিমাণ অর্থ আবারও খরচ করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বেশ কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বিজ্ঞানের বিভাগগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তঃসম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে সঠিক দিক-নির্দেশনা পায় না।
তারা আরও বলেন, বিজ্ঞানের এই কঠিন বিষয়গুলোতে ভর্তির পর প্রথম বর্ষেই শিক্ষার্থীরা বুঝে উঠতে পারেন না তাদের কীভাবে কি করতে হবে। এসব সমস্যা নিয়ে শিক্ষকদের খুব একটা কাছে যেতে পারে না শিক্ষার্থীরা।
‘তাদের উত্তরপত্র তুলনামূলক কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে’এমনটি উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পাস করলেও চাকরির বাজারে গিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে পারছে না। অথচ মেধাবী সব শিক্ষার্থীরাই এই বিভাগগুলোতে ভর্তি হয়।’
এ বিষয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম গোলাম মর্তুজা জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা চাকরির আশায় হতাশায় ভোগে। তারা ভাবে এই পদার্থ বিজ্ঞান পড়ে কী হবে! তাই তারা একাডেমিক পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ক্লাস নাইন-টেনের বই পড়তে শুরু করে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা অতি দ্রুত শিক্ষার্থীদের হতাশা থেকে বের করে আনতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ভালো করতে হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পারিক মিথস্ক্রিয়া, বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। ক্লাসের বাইরেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থী-শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষক আলোচনার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।’
এসএস/আরআইপি
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - ক্যাম্পাস
- ১ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ দিনের শোক কর্মসূচি
- ২ শেকৃবিতে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে বাধা, সতর্ক করলো প্রশাসন
- ৩ খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে জবি থেকে যাবে ৬ বাস
- ৪ খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে ডাকসু নেতার বিতর্কিত পোস্ট, দুঃখ প্রকাশ
- ৫ জবি শিক্ষককে হেনস্তা: জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কার দাবি