ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

মধ্যরাতে ঢাবির হলে গাঁজা সেবনকালে ছাত্রদল কর্মীসহ আটক ৪

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১২:৫৬ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের (প্রস্তাবিত শহীদ ওসমান হাদি হল) ছাদে মধ্যরাতে গাঁজা সেবনের প্রস্তুতিকালে ছাত্রদলের এক কর্মীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিনগত রাত ২টার দিকে হলের পুরাতন ভবনের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। আটকদের মধ্যে দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দুজন বহিরাগত বলে জানা গেছে।

আটক শিক্ষার্থীরা হলেন ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানবীন আহমেদ ওরফে আহমেদ আনিম। তাদের মধ্যে তানবীন আহমেদ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তিনি ক্যাম্পাসে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আটক বহিরাগত দুজন হলেন সামিউল ও রাকিব।

হল সূত্রে জানা যায়, হলের ছাদে মাদক সেবনের খবর পেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান এবং এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি। এ সময় চারজনকে গাঁজা সেবনের প্রস্তুতি নিতে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয় এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টরিয়াল টিমকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তামাকপাতা, গাঁজা ও কলকি উদ্ধার করা হয়।

আটক বহিরাগত সামিউল বলেন, আমি আর রাকিব ডেমরা এলাকায় থাকি। ধানমন্ডিতে একটি কাজে এসেছিলাম। রাত হয়ে যাওয়ায় পরিচিতদের সঙ্গে হলে আসি।

হলের ছাদে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিলাম। শরীরটা ভালো লাগছিল না, তাই ছাদে উঠেছিলাম।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী তানবীন আহমেদ বলেন, আমরা এই হলে একটি কাজে এসেছিলাম। পরে ভালো লাগছিল না, তাই ছাদে যাই।

মাদক সামগ্রীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে প্রমাণের কথা জানানো হলে তিনি বলেন, এগুলো আমাদের সঙ্গেই ছিল, অস্বীকার করার কিছু নেই।

ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য রিপন বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করি। বহিরাগতদের সাধারণত থানায় সোপর্দ করা হয়। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

হল সংসদের এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি বলেন, আমার রুম থেকে পুরাতন ভবনের ছাদ দেখা যায়। গভীর রাতে সেখানে লোকজন দেখতে পেয়ে আমি যাই। আমাদের হলের পুরাতন ভবনে লোকজন কম থাকায় আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। মাদক সেবন করতে দেখে আমরা তাদের পরিচয় জানতে চাই এবং হলের শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিমকে বিষয়টি জানাই।

তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় আমাদের ঘোষণা ছিল—মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি। এক হলের শিক্ষার্থী হয়ে অন্য হলে বহিরাগত নিয়ে মাদক সেবন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাবো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, গাঁজা সেবনের খবর পেয়ে আমরা প্রক্টরিয়াল টিম পাঠিয়েছি। যেহেতু আটকদের মধ্যে হলের শিক্ষার্থী রয়েছে, তাই হল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এফএআর/এমএমকে