ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

ডাকসুর কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ ঘিরে সমালোচনা তুঙ্গে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

শীতার্ত মানুষের সহায়তায় স্পিরিটস অব জুলাই ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ শীর্ষক কনসার্টকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন মহল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত কনসার্টে আবুল খায়ের টোবাকো কোম্পানির পক্ষ থেকে ফ্রি সিগারেট বিতরণ করা হয়। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী ডাকসুর আয়োজনে এমন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনার সমালোচনা করে শেখ মুজিবুর রহমান হলের (প্রস্তাবিত শহীদ ওসমান হাদি হল) ভিপি মুসলিমুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কুয়াশার গান কনসার্ট আয়োজকরা সিগারেটকে প্রমোট করার কারণে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। যেখানে আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণের স্বার্থে হলগুলোকে সিগারেটসহ মাদক মুক্ত করার কাজ করছি সেখানে এহেন কর্মকাণ্ড তাদের কাছে কখনো প্রত্যাশিত না।

সর্বোপরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের এমন আয়োজনে ঘৃণা দেখিয়েছে। আয়োজক নেতারা ক্ষমা চাওয়ার আহবান রইলো।

ঢাবি শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিন লিখেছেন, ডাকসু আজকের কনসার্টে আবুল খায়ের টোবাকো কোম্পানির অত্যাধুনিক দোকান বসিয়ে ছেলে-মেয়েদের সিগারেট -মাদক সেবন করার এন্তেজাম করেছে। ছিন্নমূল বা পাগল লোকজন মাদক সেবন করলে ক্যামেরা নিয়া এবি জুবায়ের আর লাঠি হাতে সর্বমিত্র এসে মাদক নির্মূলের নাটক করবে- কিন্তু ঐটা পাওয়ারফুল কোন কোম্পানির তরফ থেকে আসলে নম নম কইরা ক্যাম্পাসে ওদের জায়গা করে দিবে! ছোটলোকদের মধ্যে টাকাওয়ালা বড়লোকদের প্রতি একটা দাসত্বসুলভ মনোভাব সবসময়ই থাকে!

বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ ঘিরে সমালোচনা তুঙ্গে

এদিকে, ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এক ফেসবুক পোস্টে দুঃখপ্রকাশ করে লিখেছেন, কনসার্টের জন্য ডাকসুর পক্ষ থেকে শুধু তিনিই যুক্ত ছিলেন। তবে স্পন্সরের সঙ্গে যোগাযোগ, চুক্তি বা শর্ত নির্ধারণসংক্রান্ত কোনো আলোচনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেননি।

কনসার্টের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’ সম্পর্কে লিখেছেন, তারা জানিয়েছিল- সংগীতানুষ্ঠানের মাঠে একটি নির্দিষ্ট ‘স্মোকিং জোন’ রাখা হবে, যাতে ধূমপানের কারণে অন্য দর্শকদের কোনো ভোগান্তি না হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি শুনে তিনি আশ্বস্ত হন। কনসার্ট চলাকালে পুরো সময়জুড়ে অতিথি ও স্টেজ ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত থাকায় মাঠে কী ঘটছিল, সে সম্পর্কে তার জানা ছিল না। কনসার্টের শেষের দিকে ফেসবুকে বিষয়টি নজরে এলে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হন, তবে তখন হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, স্মোকিং জোনের ভেতরে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হবে-এ তথ্য তার জানা ছিল না।

এফএআর/এসএনআর/এমএস