ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

ইবির বিএনপিপন্থি শিক্ষকের অসহযোগিতায় নিয়োগ বোর্ড স্থগিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ১০:৪০ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাংবাদিকতা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়েছে। কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি ও বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ইবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের অসহযোগিতায় এমনটি হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাশিদুজ্জামান উপস্থিত না হওয়ায় রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রশাসন নিয়োগ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, রোববার সকাল ১০টা থেকে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের সিদ্ধান্তে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হননি রাশিদুজ্জামান। দলীয় সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তিনি। ফলে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা হলে দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। পরে নিয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এদিকে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র মজলিস, জমিয়তে তলাবায়ে আরাবিয়া, ইবি সংস্কার আন্দোলনের নেতা-কর্মীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে জানার জন্য রশিদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, নিয়োগের অধিকতর স্বচ্ছতার জন্য আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে সব নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্তেই আজকের নিয়োগ বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হননি। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে যাতে বিঘ্ন না ঘটে এজন্য আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ হতে পারে, তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষিতে নির্বাচনের আগে কোনো প্রকার নিয়োগ না হোক এটাই আমাদের চাওয়া।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আমাদের বোর্ডের বাকি ৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীরাও নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল পর্যন্ত বিভাগের সভাপতি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি উপস্থিত থাকবেন। তবে রোববার তিনি আসেননি, দলগত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি আসতে পারবে না বলে জানিয়েছেন। তার অনুপস্থিতির কারণেই এদিনের বোর্ডটি স্থগিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, চরম শিক্ষক সংকটে ভুগছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ। মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম। এর প্রেক্ষিতে বিভাগটিতে তিন পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মাঝে সহকারী অধ্যাপক পদে ২টি ও প্রভাষক পদে ১টি।

ইরফান উল্লাহ/এফএ/জেআইএম