ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

সারাদেশে নারীদের ওপর হামলার অভিযোগ, বিচার দাবি ইসলামী ছাত্রীসংস্থার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারণায় নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গনে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ঢাবি শাখা এ সংবাদ সম্মেলন করে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নার তামান্না বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীদের ওপর শারীরিক হামলা, হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে অনলাইনে যেসব নারী সরব হয়েছেন, তাদের ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ফ্যাট শেমিং, মেসেঞ্জারে হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার করছেন।

তিনি জানান, গত দুদিনে অন্তত ১৪টি নারী নির্যাতন ও হেনস্তার ঘটনা সংগঠনের নজরে এসেছে। ২৫ জানুয়ারি যশোরের ঝিকরগাছায় যুবদল সভাপতির নেতৃত্বে হামলা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। একই দিনে চুয়াডাঙ্গা ও কুমিল্লায় নারীকর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

সাবিকুন্নার তামান্না আরও জানান, ২৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে এক নারীর ওপর বর্বর হামলার পাশাপাশি লালমনিরহাটে ১৩ নারীকর্মীকে হেনস্তা করা হয়। এর আগে ভোলার চরফ্যাশনে এক নারীর কান ছিঁড়ে অলংকার ছিনিয়ে নেওয়া, নাটোরে নারীকর্মীদের চর-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর, ঝিনাইদহ, ভোলা, মেহেরপুর ও ঢাকার মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন সময় নারীকর্মীদের হেনস্তা ও হামলার ঘটনা ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২৫ জানুয়ারি বিএনপির এমপি প্রার্থী পাপিয়া তার বক্তব্যে জামায়াত ও ছাত্রী সংস্থার কেউ নির্বাচনি প্রচারণায় গেলে তাদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।

এতসব ঘটনার পরও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সাবিকুন্নার তামান্না।

তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, যেখানে নারীদের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং তারা নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারবে। কিন্তু ভোটের আগেই বিরোধী দলের নারীকর্মীদের ওপর যেভাবে হামলা ও নির্যাতন হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

jagonews24

সাবিকুন্নার তামান্না অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় ‘সিলেক্টিভ প্রতিবাদ’ করা হচ্ছে। অতীতে এক জামায়াত নেতার অশোভন মন্তব্যের ঘটনায় প্রতিবাদ হলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা সংঘটিত শারীরিক হামলার ঘটনায় কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি। আমরা এ ধরনের সিলেক্টিভ প্রতিবাদের বিরোধিতা করছি।

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, বড় বড় গণমাধ্যম তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও নারীকর্মীদের ওপর চলমান হামলার বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে করে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি প্রচারণায় কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিচার নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে নারীদের ওপর শারীরিক হামলা করা যাবে না।

শেষে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবিকুন্নার বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীরা চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জনসম্মুখে শাস্তি ঘোষণা করলে নারী সমাজ নির্বাচনি পরিবেশে নিজেদের নিরাপদ মনে করবে। অন্যথায় নারীরা নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে এবং ভোটকেন্দ্রে যেতেও ভয় পাবে।

সাংবাদিকদদের প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনটির ঢাবি শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, নারীকর্মীদের ওপর এভাবে অব্যাহত হামলা নির্বাচনের লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জামায়াত এরই মধ্যে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবগত করা হলেও আমরা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখিনি।

এফএআর/বিএ